English|Bangla আজ ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার রাত ৩:১৯
শিরোনাম
পত্নীতলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার শিশু খাদ্য বিতরণসাপাহারে ভুয়া কবিরাজের চিকিৎসায় হাত হারাতে বসেছে সাত বছরের শিশু!পলাশবাড়ীতে জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিতনাগেশ্বরী কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হলেন মোহাম্মদ অাব্দুল অাউয়ালকুড়িগ্রামে মোবাইলে অনলাইনে গেম খেলায় ১১ শিক্ষার্থী আটক- মুচলেকায় অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরডিসিসিআই’র আয়োজনে ” সাস্টেইনএবল রিভার ড্রেজিং: চ‍্যালেঞ্জেস এন্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড ” শীর্ষক অনলাইন আলোচনা সভায় নৌ প্রতিমন্ত্রীখানসামায় লকডাউন বাস্তবায়নে চলছে এসিল্যান্ড এর বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ অভিযানচাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু ১, শনাক্ত ২৭বান্দরবানে টানা বর্ষণে পানিবন্দী মানুষের মাঝে খাবার পৌঁছে দিল সেনাবাহিনীচট্রগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে নারী ছিনতাইকারী গ্রেফতার

হোম কোয়ারেন্টিনে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. মাহফুজার রহমান

আল কাদরি কিবরিয়া সবুজ, (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:-

অসুস্থ হয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. মাহফুজার রহমান। এ ব্যাপারে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গতকাল তাকে না জানিয়ে হটাৎ করে এক বিদেশ ফেরত মহিলা তার কক্ষে প্রবেশ করে তার সামনের চেয়ারে বসেন। এসময় তিনি তার পরিচয় এবং শারীরিক অসুস্থতার কথা বলেন।

পরে তিনি করোনা পরীক্ষার জন্য অনুরোধ করে বাড়ি ফিরে যান। এরপর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তত্ত্বাবধায়ক। আগামীকাল তিনি আইইসিডিআর থেকে আগত ব্যক্তির নিকট করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে নমুনা দেবেন।

এদিকে আমেরিকা, ইতালী, চীন, দুবাই ও কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ঠিক কতজন প্রবাসী গাইবান্ধায় ফিরেছেন, এই ব্যাপারে খোদ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কোন তথ্য নেই। ফলে করোনা মোকাবেলায় যথাযথ প্রস্তুতি না থাকা, চিকিৎসা সামগ্রী না থাকা ও সম্প্রতি বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের জনগণের কাছে চিহ্নিত না করে দেয়াসহ নানাবিধ অক্ষমতার কারনে উদ্বিগ্ন জেলার সাধারণ মানুষ।

প্রস্তুতি হিসেবে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে করোনা মোকাবেলায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে প্রধান করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হলেও নেই কোন চিকিৎসা সামগ্রী। নেই করোনা মোকাবেলায় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্স কিংবা চিকিৎসক!

সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জনবল সংকটের পাশাপাশি গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতা ১শ জনের হলেও উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির আইসিইউ/সিসিউ একটি বেডও নেই। তবে হাসপাতালের একটি ভবনে করোনা মোকাবেলায় ৫ বেডের আইসোলেসন সেন্টার তৈরী করা হয়েছে।

এর মধ্যে তিনটি পুরুষ ও দুইটি শয্যা রয়েছে মহিলা রোগী’র জন্য। করোনা মোকাবেলায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি।

সরকারিভাবে তাদের জন্য মাস্ক, গাউনসহ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী বরাদ্দ আসেনি। এছাড়া করোনা মোকাবেলায় জেলা হাসপাতাল থেকে মাত্র ১জন চিকিৎসক ঢাকা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। বিশেষ প্রশিক্ষনের জন্য আরও চিকিৎসককে ঢাকায় পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি পিপিই (বিশেষ পোষাক) ১০০টি থাকলেও আরও চাহিদা পত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হাসপাতালের একাধিক নার্স ও ডাক্তার জানিয়েছেন, আমরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছি। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ও তার স্বজনরা আসেন হাসপাতালে। তাদের মধ্যে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের আমরা জানিনা। করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য নেই গাউন, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস। এমতাবস্থায় আমরা কিভাবে অন্যকে চিকিৎসা সেবা দেব, আমরা নিজেরাই তো বিরাট ঝুঁকিতে?

করোনার ঝুঁকি নিয়ে গাইবান্ধা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আহসান হাবিব রাজিব বলেন, বিদেশীদের প্রবেশ বন্ধ না হওয়া এবং তাদেরকে আজ থেকে কমপক্ষে ১০ দিন আগে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টিনে না রাখতে পারায় বিদেশ ফেরত ব্যক্তিরা সর্বত্র ছড়িয়ে পরেছে। তাদের বাড়িঘর চিহ্নিত করা গেলে আরও ভালো হতো।

বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের নিজেদেরও এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিৎ ছিল। তাহলে অন্তত গাইবান্ধার মানুষ আরও নিরাপদে থাকতে পারতো। চারিদিকে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশংকা থাকলেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় সরকার যথেষ্ট আন্তরিক বলেও তিনি জানান।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বলেন, আমরা চাহিদাপত্র অনুযায়ী চিকিৎসা সামগ্রী পেয়েছি। চিকিৎসকদেরকে তা দেয়া হবে। তবে এই সংকটময় মুহূর্তে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

গাইবান্ধায় বিদেশ ফেরত এবং করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের কিভাবে দেখভাল করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদেরকে তাদের নিজ বাড়িতেই কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। পুলিশ সার্বক্ষণিক পাহারা দিচ্ছে এবং মোবাইলে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এসময় তিনি তত্ত্বাবধায়কের অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাইবান্ধা নদী ভাঙন কবলিত ও মঙ্গাপিরিত জেলা হওয়ার কারনে এখানকার মানুষ খুব বেশি সচেতন ও শিক্ষিত নয়। কৃষক ও দিনমজুর শ্রেণির কমিউনিটির এই জেলায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও ১৫ সদস্যের নামে মাত্র চিকিৎসা সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হলেও চিকিৎসা সামগ্রি না থাকায় জেলায় করোনা মোকাবেলার প্রস্তুতিতে ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন গাইবান্ধার সচেতন মহল।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো