English|Bangla আজ ৪ঠা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার দুপুর ২:৫৭
শিরোনাম
এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে নোবিপ্রবি উপাচার্যের শোকনলডাঙ্গায় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মিঠুর বাইক শোডাউনসোনাগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ ফেনী জেলার শ্রেষ্ঠ পুরস্কারে মনোনিতসাপাহারে মিশ্র বাগান করে কোটিপতি কৃষক সাখাওয়াত হাবীব!নান্দাইলে মাঠ দিবস ও রিভিউ ডিসকাশনবান্দরবানে সারাদেশে সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন ও নিপিড়ন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধনপুলিশ লাইনস্ নরসিংদীতে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিতরাণীনগরে প্রতিবন্ধির জমি লিখে নেয়ার অভিযোগ বোনের বিরুদ্ধেদিনাজপুর পৌরসভা কাউন্সিলর জনকল্যাণ সংস্থা কর্তৃক নবাগত জেলা প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদানদৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ঢাবি শিক্ষার্থীকে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

“স্মরণের আবরণে শহীদ বুদ্ধিজীবী রায়সাহেব কামিনী কুমার ঘোষ”

মু. এনামুল হক মিঠু :

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টুকুতেই পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী কর্তৃক পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের জ্ঞানী-গুণী ও মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের হত্যা করা হয়েছিল । ১৯৭১ এর ডিসেম্বর মাসে স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে পাকিস্তান বাহিনী যখন বুঝতে শুরু করে যে তাদের পক্ষে যুদ্ধে জেতা সম্ভব না, তখন তারা নবগঠিত দেশকে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে দূর্বল এবং পঙ্গু করে দেয়ার জন্য পরিকল্পনা করতে থাকে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানী বাহিনী তাদের দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনীর সহায়তায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিজ নিজ গৃহ হতে তুলে এনে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে।

এই পরিকল্পিত গণহত্যাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত। এরই ধারাবাহিকতায় সাতকানিয়া থানার আওতাধীন এই কাঞ্চনা গ্রামে জন্ম বহু আলোকিত মানুষের। যাদের পদাচারণায় মুখরিত জনপদের সংখ্যা সংখ্যাতীত। তেমনি এক আলোকিত মানুষ শহীদ বুদ্ধিজীবী রায়সাহেব কামিনী কুমার ঘোষ।

যিনি ইতিহাসের বহু সন্ধিক্ষণের সাক্ষী। এই দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, মানবতার মহান বন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক রায়সাহেব কামিনী কুমার ঘোষের বর্ণাঢ্য জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও এদেশীয় রাজাকাররা। ১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল নিজ বাসায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল তাকে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী রায়সাহেব কামিনী কুমার ঘোষের সমাজ চিন্তার মহান ধারা আজও সগৌরবে উজ্জ্বল আমাদের জীবনীতে। এই মহান ক্ষণজন্মা শুধু কাঞ্চনাকেই আলোকিত করেননি বরং পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রাম ছাপিয়ে উনার কীর্তি আজ সারাদেশে ভাস্বর। দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরেও আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবী রায়সাহেব কামিনী কুমার ঘোষ হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করতে পারলাম না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা কোন এক অজানা কারণে স্তিমিত হয়ে আছে। যদিওবা ঘাতক এখনও বহাল তবিয়তে দিনযাপন করছে। এ লজ্জা কার ?

এতদঞ্চলে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধীর সুহৃদ শহীদ বুদ্ধিজীবী রায়সাহেব কামিনী কুমার ঘোষের বর্ণাঢ্য জীবনীর চুম্বকাংশ নিম্নে আলোকপাত করা হল:

• জন্ম ১৮৮৮ সালে। পিতা- চৈতন্য চরণ ঘোষ, মাতা- কমলা ঘোষ।

• ১৯০৬ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে এন্ট্রাস পাস এবং চট্টগ্রাম কলেজ থেকে আই.এ পাস।

• ১৯০৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতা গমন। স্বনামধন্য প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে গণিতে বিএ (অনার্স) করেছেন ১৯১০ সালে।

• ১৯১২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বৃত্তিসহ প্রথম বিভাগে এম.এ পাস। একই সাথে আইনশাস্ত্রে বৃত্তিসহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

• দেশে ফিরে আসেন ১৯১৩ সালে। চট্টগ্রাম জর্জ কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত হন। এবং একই বছরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

• ১৯২১ সালে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে জড়িত হন। এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের পুরোধা হিসেবে লোকজনকে সংগঠিত করতে থাকেন।

• ১৯২২ সালে তিনি (কাঞ্চনা, ডলুকূল, আমিলাইষ) ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হন। তিনি সে সময়ে সাতকানিয়া-বাঁশখালি এডুকেশন সোসাইটি গঠন করে গ্রামে-গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে সফল হন।

• ১৯২৯ সালে তিনি বাল্যবন্ধু ললিত মোহন চৌধুরী ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের নিয়ে “আমিলাইষ কাঞ্চনা বঙ্গ চন্দ্র ঘোষ ইন্সটিটিউট” প্রতিষ্ঠা করেন। স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেছিলেন কাকা বঙ্গ চন্দ্র।

• ১৯৪৮ সালে সাতকানিয়া কলেজ (সাতকানিয়া সরকারি কলেজ) প্রতিষ্ঠার অন্যতম ছিলেন তিনি, এবং প্রথম অবৈতনিক অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

• ১৯৬৯ সালে কাঞ্চনায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমিলাইষ কাঞ্চনা বঙ্গ চন্দ্র ঘোষ ইন্সটিটিউটকে সম্প্রসারিত করে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতির এই মহান দূতকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় স্মরণ করি। এবং জাতি গঠনে উনার অবিস্মরণীয় অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো