English|Bangla আজ ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার বিকাল ৪:৫৬
শিরোনাম
স্বপ্নের ফুলবাড়ী স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালিতমহেশপুরের আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করলেন মাননীয় জেলা প্রশাসকনরসিংদীতে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড ২৭৯ জনপবিত্রতা ও তওবার মাধ্যমে করোনা রোগমুক্তি শতভাগ সম্ভব- সংবাদ সম্মেলনে পীর লিয়াকত আলী খানদাগনভূঞা পৌরসভা করোনা ভাইরাস এর সংক্রমন ও প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্টিতরাণীনগরে চুরির ঘটনায় চার জন গ্রেফতার চোরাই মালামাল উদ্ধারনৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অগ্রগতি পর্যালোচনা ভার্চুয়াল সভাদিনাজপুর বিরল উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবকলীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিতখানসামায় ট্রাক-ট্রাঙ্কলরী শ্রমিকদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দিলেন ইউএনওউলিপুরে রাস্তায় মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধা মহিলার মৃত্যু

ময়মনসিংহে বস্তিবাসীদের চরমউদ্বেগ আর হতাশা

বদরুল আমীন, ময়মনসিংহঃ এবার ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে চলবে উচ্ছেদ অভিযান। প্রশাসন প্রস্তুত। অপেক্ষা কেবল আর মাত্র ২ দিনের। অন্যদিকে অসম উচ্ছেদের মুখে পড়া হাজারো পরিবার দিশেহারা। ৪২ হাজার লোকজন চরম মানবিক বিপর্যয়ের শিকার হতে যাচ্ছে। তাদের ৪৬ বছরের বসতি খালি করে দিতে বলেছে প্রশাসন।

মাত্র ১৫ দিন ধরে হয়েছে মাংকিং। যাতে চোখে সর্ষে ফুল দেখছে নদী পাড়ের বস্তিবাসীরা। প্রশ্ন উঠেছে- মাত্র এক মাসের মৌখিক নোটিশে উচ্ছেদ করলে এই শীতে মানুষগুলো যাবে কোথায়? উচ্ছেদ আতংক, উদ্বগ তারা করছে তাদের। চরম দুঃসময় অনিশ্চয়তা ভাগ্যবিপর্যয়ের ছোবলে পড়া লোকজন অসহায়। তাদের পাশে কেউ নেই। বস্তিবাসীরা পুনবাসন ও সময় দাবি করে জেলা প্রশাসন সিটি করপোরেশন বরাবরে ধর্না দিয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানের বিপক্ষে তাদের কোন উত্তেজনা নেই। তাদের প্রত্যাশার মানবিক আবেদনে ছিল কিছুটা সময়ের প্রর্থনা। যে জন্য তারা প্রশাসনের বরাবরে দরখাস্ত দেয়। ছিন্নমূল ভূমিহীনদের স্থায়ী পুর্নবাসন না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ না করার আবেদন জানান বস্তিবাসীরা। শত শত লোক গনস্বাক্ষর দেন। কিন্তু কোন কিছুই হয়নি। মূর্তিমান বিপদ দ্রæত ধেঁয়ে আসছে ব্রহ্মপুত্র উপকন্ঠে।

বরং আগে প্রশাসন ২৩ ডিসেম্বর থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ঘোষনা দিয়েছিল। এখন সেই তারিখ ৩ দিন এগিয়ে ২০ ডিসেম্বর হতে যাচ্ছে। প্রশাসনে বরাবরে আবেদন নিবেদন করার লাভ হয়েছে এইটুকু। এ নিয়ে চাঁপা উত্তেজনা চলছে। উচ্ছেদ অভিযান শুরুর তারিখ এগিয়ে এলেও আসন্ন উচ্ছেদের মুখেও নির্বিকার রয়েছেন বস্তিজীবনের অধিকারী হাজার হাজার মানুষ।

এদিকে, গত নভেম্বর থেকে ময়মনসিংহ শহরে শুরু হয়েছে উচ্ছেদ কার্যক্রম। ১৪ নভেম্বর রেলওয়ের জমিতে অবৈধ স্থাপনা ও বসতি উচ্ছেদ অভিযান চলে। এরপরই শুরু হয় ব্রহ্মপুত্র পাড়ে বেড়ি বাঁধ সংলগ্ন বস্তি উচ্ছেদের কার্যক্রম। প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে নেমে আসে উচ্ছেদের এরিয়া ও লক্ষ্য চিহ্নিত করে এবং মাংকিং করে। সময় বেঁধে দেয়া হয় ২৩ ডিসেম্বর।

ইতিমধ্যে চরম উদ্ধেগ উৎকন্ঠার মধ্যে পড়েছেন রেলির মোড়ের ইসলাম বাগের ছিন্নমূল ভ’’মিহীন মানুষ। একই অবস্থা থানা ঘাট ব্রহ্মপুত্র বালুরচর বাস্তহারাদের।
চর ঈশ্বরদিয়া মৌজার সাবেক ২৮৪৫ দাগের ১ নং খাস খতিয়ানের জমিতে গড়ে উঠে ইসলামবাগ বস্তি। যেখানে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার অধিবাসী। যারা নদীভাঙ্গনে ভ’মিহীন ও ছিন্নমূল হয়ে জীবন জীবিকার তাড়নায় শহরে আশ্রয় নেন। আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান তাদের মাথায় বিনামেঘে বজ্রপাত এর মতো। তারা এখন হতবিহবল।

ইসলামবাগ বস্তি এলাকায় রয়েছে ৫ টি মসজিদ, ৩ টি মন্দির, ১ টি প্রাইমারী স্কুল ও ২ টি মাদ্রাসা। প্রধান মন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী এলাকাবাসী ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন থেকে পূর্নাঙ্গ নাগরিক সুবিধা ভোগ করছেন। প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন রত। এ অবস্থায় উচ্ছেদ অভিযানটিকে ঘিরে বস্তিবাসীদের পুনবাসন বা অন্যত্র সরে যাবার পযাপ্ত সময় না দেয়াকে সচেতন নাগরিক সমাজ সহ মানবাধিকারকর্মীরা কড়া সমালোচনা করছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বও নদীতীরবর্তী বস্তি উচ্ছেদের ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনার আহবান জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের ফলে নগরে মধ্যবিত্ত শ্রেনির মানুষ নিদারুন বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েন। এতে সামাজিক অস্থিরতাও চলে। বিশেষ করে রাতারাতি ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম সমস্যার মধ্যে পড়েন পরিবারগুলো।শহরে ভাড়া বাসা হয়ে যায় কঠিন। যে পরিবার মাসে ২/৩ হাজার টাকা বাসাভাড়া গুনতে তাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে আসে ১২/১৩ হাজার টাকা ভাড়া। অসহায় সেই পরিবারগুলোর বর্ণনাতীত দুঃখের গল্পের শেষ নেই।

সেই সাথে ময়মনসিংহে নতুন করে প্রায় ১০ হাজার পরিবারের বাসার সংকটের দিকটি সামনে এসেছে। এসব পরিবার কোথায় যাবেন, কোথায় উঠবেন, কিভাবে চলবেন সেই দুশ্চিন্তার মধ্যেই শুরু হচ্ছে উচ্ছেদ অভিযান।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো