English|Bangla আজ ৯ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬:৫৮
শিরোনাম

মেয়ের ও নিজের স্বপ্নপূরনে দারিদ্রতার দোহাই দেননি – ঝালমুড়ি বিক্রেতা বাবা

নজরুল ইসলাম জুয়েল, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ

মেয়ের ও নিজের স্বপ্নপূরনে দারিদ্রতার দোহাই দেননি ঝালমুড়ি বিক্রেতা বাবা ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সিটি কর্পোরেশন এর ১৫ নং ওয়ার্ডের বস্তি এলাকা খাল পাড়, মাসকান্দা, ময়মনসিংহ এর স্থায়ী বাসিন্দা মো: খলিল মিয়া।
মেয়ের নাম: মোছা: জেসমিন আক্তার, বয়স: ১৬ বছর, শ্রেণি : ৭ম পড়ে। তিনি একজন দিনমজুর।

অধিকাংশ সময় তিনি ঝালমুড়ি বিক্রি করেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা মোট পাঁচ জন। সে ও তার স্ত্রী উভয়ে সন্তানদের মানুষ করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে। তার স্ত্রী বাসাবাড়িতে কাজ করেন।

“সাধ্যের বাহিরে স্বপ্ন” এই বাবার তার সন্তানদের নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা অবিশ্বাস্য। বিশেষত্ব মেয়ের বেলায়। তিনি তার মেয়েকে একজন ডাক্তার হিসেবে দেখতে চান। সেই স্বপ্ন বুকে লালন করে তিনি সামনের দিকে এগুচ্ছেন। এইদিকে ওনার মেয়ে ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। প্রতিবেশী, আত্মীয়, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ এছাড়াও অনেকে মেয়েকে বিয়ে দিতে বলে।

মেয়েদের লেখাপড়া করিয়ে কি হবে, পড়ালেখা করালেই কি বিয়ের নিজের বাবা- মাকে দেখাশুনা করতে ইত্যাদি নানান কথা শুনায়। কিন্তু তিনি তার সিদ্ধান্তে অটুট। এদিকে আবার কিছু বখাটে ছেলের উপদ্রুপ। এইক্ষেত্রে তিনি ঐ ছেলেদের বুঝানোর চেষ্টা করেন, ওদের বাড়িতে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। এক্ষেত্রে তিনি আরও একটু সর্তকতা অলম্বন করেন। তিনি ও তার স্ত্রী পালাক্রমে মেয়েকে নিয়ে স্কুলে বেশ কিছুদিন যাতায়াত করেন।

মেয়ের মনোবল বৃদ্ধির জন্য তিনি মেয়েকে সাহসী হতে উপদেশ দেন। ডাক্তার হতে গেলে তোমাকে সাহসী হতে হবে, আমাদের মতো যারা টাকার অভাবে সঠিক চিকিৎসা করাতে পারেনা তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে- এই ধরনের উপদেশমূলক কথা বলেন। এভাবে ছোট্ট ছোট্ট পদক্ষেপে তিনি তার স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছন।

স্বপ্ন তার পূরণ হোক এই কামনায়।আরএইচস্টেপ, হেলো আই এম কমিউনিটি গার্লস গ্রুপের সদস্য। তারা এমএমডাব্লিউ সেশন পেয়ে অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছে। তাই তারাও এখন মায়ের স্বপ্ন পূরণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো