English|Bangla আজ ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪:৫৪
শিরোনাম
রংপুর জেলা আ’লীগ নেতা ওয়াজেদুল ইসলামের মাতা আর নেইফুলপুর শুভসংঘের নয়া কমিটির যাত্রা শুরু, আশরাফ সভাপতি, পান্না সাধারণ সম্পাদকনরসিংদীতে ঢিলেঢালা লকডাউনচিরিরবন্দরে নির্দেশ অমান্য করে দোকান খোলায় ১০ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাফেসবুক গ্রুপ প্রিয় খানসামা’র উদ্যোগে গরীব পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরুপহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সাপাহারে রোগীদের মাঝে উন্নত খাবার পরিবেশনকরোনা কি পৃথিবীতে দুর্ভিক্ষের হাতছানি দিচ্ছে?ইউএনও-এসিল্যান্ডের নজরদারী- নান্দাইলে কঠোরভাবে লকডাউন পালনমুরাদনগরে খেলার মাঠকে বাঁচিয়ে রাখতে মানবিক আবেদন জানিয়ে মানববন্ধনলক্ষ্মীপুরে মেশিনে কাঁটা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

মাদক নিয়ন্ত্রণে মোহনপুর থানার ওসির কৌশল গুলো ফলপ্রসূ হয়েছে।

মোহনপুর প্রতিনিধি

মাদক নিয়ন্ত্রণে রাজশাহীর মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাক আহম্মেদ এর কৌশল গুলো ফলপ্রসূ হয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এবং সাধারণ জনগণ মনে করছেন। তারা বলেন, ওসি মোস্তাক আহম্মেদ মোহনপুর থানায় যোগদানের পূর্বে মোহনপুর থানার মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। মাদক বিক্রেতারা এলোপাতাড়ি ভাবে মাদক বিক্রি করছিল এবং যুবসমাজ মাদকাসক্ত হয়ে ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছিল।

এমনই সময় ওসি মোস্তাক আহম্মেদ ২৮-৫-২০১৯ মোহনপুর থানায় যোগদান করেন। যোগদানের পরপরই তিনি স্থানীয় সকল সাংবাদিক এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘মাদকের উপরে জিরো টলারেন্স নী‌তি’ ঘোষণার সূত্র ধরে তিনিও মোহনপুর থানায় মাদক এর উপরে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। তিনি মোহনপুর থানার সকল পুলিশফোর্সকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় ৮০ ভাগ মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হ‌য়ে‌ছেন বলে তিনি মনে করেন।

মাত্র ৬ মাসে তিনি ১১৫ টি মাদক মামলা রুজু করেছেন এবং ১৮৩ জন মাদক সেবনকারী ও মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। মাদক বিক্রয় হতে বিরত রাখার জন্য তিনি অসংখ্য মাদক বিক্রেতার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। বর্তমানে মোহনপুর থানায় মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবী তেমন নেই বললেই চলে।

এ বিষয়ে মোহনপুর থানার ৩নং রায়ঘাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন ওসি সাহেব মোস্তাক আহম্মেদ আসার পরে উনি ওনার সহযোগীদের নিয়ে নিয়মিত আমার এলাকায় টহল দেন। বর্তমানে আমার এলাকায় তেমন মাদক নেই বললেই চলে। নেশাখোর যে দুই থেকে চার জন ছিল তারাও এখন বর্তমানে সুস্থ্য জীবন যাপন করছে।

এ বিষয়ে ঝাল পুকুরিয়ার আদিবাসীদের নিকট জানতে চাইলে তারা বলে, ওসি আমাদের হস্ত ও কুটির শিল্প কাজ শেখার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।আমরা এখন কাজ শিখেছি,কাজ করি।আমরা আর মাদক বিক্রি করি না।

মাদক বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ওসি মোস্তাক আহম্মেদ মোহনপুর থানায় যোগদান করার পর থেকে আমরা পুরো ছাত্রলীগ ওসি সাহেবকে মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সহযোগিতা করছি এবং তিনি অবশেষে সফল হতে পেরেছেন বলে আমরা ছাত্রলীগ মনে করছি ।

কেশরহাট পৌরসভা আদিবাসী পল্লীর ভারতী রানীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক সময়ে পাড়ার আমরা সকলে মাদক তৈরি করতাম অর্থাৎ চোলাই মদ তৈরি করতাম ওসি সাহেব এবং মেয়র সাহেব আমাদের এখানে এসেছিলেন। আমাদেরকে বুঝিয়েছিলেন এবং কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তাই আমরা এখন আর কেউ চোলাই মদ তৈরি করি না।

মাদক বিষয়ে ১নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দিন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান ওসি সাহেব মাদক বিষয়ে রাতে এবং দিনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।তিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় বর্তমানে মোহনপুর থানায় মাদক নিয়ন্ত্রিত।আমরাও আমাদের গ্রাম পুলিশ অর্থাৎ চৌকিদারের মাধ্যমে যে সমস্ত মাদক বিক্রেতা ও মাদক সেবনকারী ছিল তা‌দের‌কেও নিষেধ করে দিয়েছে মাদক বিক্রি ও সেবন করার বিষ‌য়ে । বর্তমানে আমার ১নং ধুরইল ইউনিয়ন পরিষদ প্রায় এলাকা মাদকমুক্ত।

মাদক বিষয়ে কেশরহাট পৌরসভার মেয়র শহীদুজ্জামান শহীদ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য বর্তমান মোহনপুর থানার ওসি সাহেব মোস্তাক আহম্মেদ নিয়মিত বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার ও পৌরসভার মেয়রকে সঙ্গে নিয়ে সভা-সমাবেশ করছেন। মাদকের কুফল নিয়ে আলোচনা করছেন এবং মাদকসেবীদের পুর্নবাসনের চেষ্টা করছেন।

মাদক বিক্রেতাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি আমিও আমার পৌরসভা এলাকায় কাউন্সিলরদের মাধ্যমে,এমনকি চিঠি পাঠিয়ে মসজিদে মসজিদে ইমাম এর মাধ্যমে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করছি। বর্তমানে আমাদের কেশরহাট পৌরসভা এলাকা মাদক মুক্ত ।

এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মেহেবুব হাসান রাসেলের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন,বর্তমান ওসি সাহেব মোহনপুর থানায় আসার পরে ওনার পুরো পুলিশ ফোর্স নিয়ে এমনভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন যে, বর্তমান মোহনপুর উপজেলা এলাকাটা সত্যিই মাদকমুক্ত অর্থাৎ তিনি সফল হয়েছেন।

এ বিষয়ে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাক আহম্মেদ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাদক নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স নীতিকে অনুসরণ করে, মাননীয় আইজিপি মহোদয়, মাননীয় ডিআইজি মহাদয়, মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়, এমনকি এখানকার এমপি মহোদয় সবার নির্দেশক্রমে এবং তাদের দিক নির্দেশনায় এই মোহনপুর থানায় আ‌মি মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছি, যাতে করে ভবিষ্যতে এই মোহনপুর থানাকে একটি মডেল থানা হিসেবে, মাদকমুক্ত থানা হিসেবমাদকমুক্ত থানা হিসেবে ঘোষণা করতে পারি। এই মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মোহনপুর থানার সকল জনসাধারণ এবং চেয়ারম্যান মেম্বার সহ পৌরসভার মেয়র সাহেব আমাকে পুরোপুরি সহযোগিতা করছেন এজন্য আমি তাদের নিকট চিরকৃতজ্ঞ।

এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানওয়ার হোসেন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া আছে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি বাংলাদেশের অন্যান্য থানা চাইতে আমার মোহনপুর থানায় বর্তমানে মাদক পরিস্থিতি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত।তিনি মোহনপুর থানা জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বলেন,মাদক একটি মরণব্যাধি।মাদককে পরিত্যাগ করুন। সুস্থ্য, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবন গঠন করুন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো