English|Bangla আজ ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার রাত ৩:১৩
শিরোনাম
পত্নীতলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার শিশু খাদ্য বিতরণসাপাহারে ভুয়া কবিরাজের চিকিৎসায় হাত হারাতে বসেছে সাত বছরের শিশু!পলাশবাড়ীতে জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিতনাগেশ্বরী কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হলেন মোহাম্মদ অাব্দুল অাউয়ালকুড়িগ্রামে মোবাইলে অনলাইনে গেম খেলায় ১১ শিক্ষার্থী আটক- মুচলেকায় অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরডিসিসিআই’র আয়োজনে ” সাস্টেইনএবল রিভার ড্রেজিং: চ‍্যালেঞ্জেস এন্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড ” শীর্ষক অনলাইন আলোচনা সভায় নৌ প্রতিমন্ত্রীখানসামায় লকডাউন বাস্তবায়নে চলছে এসিল্যান্ড এর বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ অভিযানচাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু ১, শনাক্ত ২৭বান্দরবানে টানা বর্ষণে পানিবন্দী মানুষের মাঝে খাবার পৌঁছে দিল সেনাবাহিনীচট্রগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে নারী ছিনতাইকারী গ্রেফতার

ভোজ্য তেলের বাজারে অস্থিরতা

হঠাৎ করেই ভোজ্য তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খোলা এবং বোতলজাত সব ধরনের ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে লিটারে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। বোতলজাত তেলের দাম এক দফা বাড়ানোর পর আবারও বাড়ানোর পথে রয়েছে কোম্পানিগুলো। দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর যুক্তি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি। এ ছাড়া বাজেটে কর আরোপ ও ডলারের মূল্য বৃদ্ধিকেও দায়ী করছে তারা।

বাজারে এখন এক লিটার খোলা সয়াবিন তেল ৮৬ থেকে ৯০ টাকা চাচ্ছেন খুচরা বিক্রেতারা, যা এক মাস আগের তুলনায় লিটারে ৬ টাকার মতো বেশি। অন্যদিকে পাম সুপার তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা বেড়ে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বোতলজাত তেলের দাম লিটারে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর এই ঘটনা ঘটছে অনেকটা নীরবে। কারণ, কোম্পানিগুলো বোতলের মোড়কে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) পরিবর্তন করছে না। ফলে সরকারের হিসাবে মূল্য বৃদ্ধির হিসাব আসছে না।

বাজারে এখন এক লিটার সয়াবিনের দাম ১১০ টাকা। পাঁচ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) কোম্পানিভেদে ৫০০ থেকে ৫৩০ টাকা। যে তেলের বোতলের এমআরপি ৫০০ টাকা, সেটা খুচরা বিক্রেতারা ৪৪০ থেকে ৪৬০ টাকায় কিনতে পারেন। আর যে কোম্পানির ৫ লিটারের বোতলের দর ৫৩০ টাকা, তা খুচরা বিক্রেতারা ৪৯৫ টাকায় কিনতে পারেন।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও দাম কমেছে সব ধরনের সবজির। প্রতি কেজিতে কমেছে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। সবজির দাম কমলেও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকারভেদে প্রতিকেজি মাছের দাম ১০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে মুরগির দামও। এদিকে অপরিবর্তিত রয়েছে মাংস, ডিম, ডাল, চাল, চিনি ও ভোজ্য তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো (কাঁচা) ২০ থেকে ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কেজিতে ১০ টাকা কমে শিম (কালো) বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, শিম (সাদা) ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা। কেজিতে পাঁচ টাকা কমে প্রতিকেজি নতুন আলু ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা, পুরনো আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে পটোল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, ঝিঙা ও ধুন্দল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, উস্তা ৫০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, পেঁপে ১৫ থেকে ২৫ টাকা, কচুর ছড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ক্ষীরা ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া দাম কমে আকারভেদে প্রতিপিস বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ২০ থেকে ৩০ টাকা, লাউ (প্রতিপিস) ৩০ থেকে ৬০ টাকায়।

এদিকে দাম কমেছে শাকের বাজারে। এসব বাজারে প্রতি আঁটিতে দুই থেকে পাঁচ টাকা কমে প্রতিআঁটি কচু শাক পাঁচ টাকা, লাল শাক ৮ থেকে ১০ টাকা, প্রতিআঁটি মুলা শাক ৮ থেকে ১০ টাকা, পালং শাক ৮ থেকে ১৫ টাকা, পুঁই শাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, লাউ শাক ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সবজির দাম কমলেও উল্টো চিত্র মাছের বাজারে। এসব বাজারে প্রতিকেজি ইলিশ (এক কেজি সাইজ) বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি ইলিশ ৯০০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা। ছোট ইলিশ প্রতিকেজি ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নদীতে ইলিশ কম ধরা পড়ছে তাই দাম বেশি বলে জানান মাছ বিক্রেতারা। সোহাগ নামে কারওয়ান বাজারের খুচরা মাছ বিক্রেতা বলেন, বর্তমানে নদী থেকে ইলিশ গভীর সাগরে চলে যাচ্ছে। এতে জেলেদের জালে ইলিশ কম ধরা পড়ছে। ইলিশ কম ধরা পড়ায় বাজারেও কম আসছে। তাই দামও একটু বেশি।

এসব বাজারে প্রতিকেজি কাচকি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, মলা ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, ছোট পুঁটি (তাজা) ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং ৩৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি (গলদা) ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, বাগদা ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা, দেশি চিংড়ি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, রুই (আকারভেদে) ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙাশ ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, কাতল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে এসব বাজারে প্রতিকেজি বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা। ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি লেয়ার ২০০ থেকে ২২০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে মাংস। বর্তমানে গরুর মাংস প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা, খাসি ৭৮০ টাকা, বকরি ৭২০ টাকা। এ ছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে ডিম, ডাল, চাল, চিনি, ভোজ্য তেলসহ অন্যান্য পণ্যের দাম।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো