English|Bangla আজ ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার রাত ২:১১
শিরোনাম
খানসামায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারী স্কুলের শিক্ষকরা ইউপি নির্বাচনী প্রচারণায়নওগাঁর রাণীনগরে সাবেক এমপি ইসরাফিলের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করতে নোটিশঝালকাঠিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার উদ্বোধনবকশীগঞ্জে একাধিক মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগবালিজুড়ী ইউপি নির্বাচনে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফকরুল ইসলামের মনোনয়ন পত্র জমামুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার ১৩ বছর আজ। পাকিস্তান দূতাবাসের সামনে মানববন্ধন।তৃতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয়ের পথে লাঙ্গল প্রার্থীরাঝালকাঠিতে প্রেসক্লাবের আয়োজনে “গল্পে গল্পে শিক্ষার্থীদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিতঝালকাঠিতে স্বপ্নের আলো ফাউন্ডেশন’র এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরন বিতরণস্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ডাঃ এম.আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে চিরিরবন্দরে মেডিকেল ক্যাম্প

বিদায়২০১ঌ স্বাগত ২০২০ উদযাপনের শিক্ষার্থীদের স্কুল পার্টি

হাবিবুর রহমান, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

ভাটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়,স্মরণে:সুফিয়া আক্তার ওরফে জোসনা, পরিচালনায় ব্র্যাক। ধর্ম পাশা ,সুনামগঞ্জ । ভাটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এক স্কুল পার্টির আয়োজন করা হয়। স্কুল পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক সভাপতি জনাব ইলিয়াস উদ্দীন বাবুল মিয়া ,প্রধান শিক্ষক,সহকারী শিক্ষক,স্কুলের শিক্ষার্থী বৃন্দ।

স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০০ জন ।শিক্ষার্থী রা অনুষ্ঠানে কেক কেটে বন্ধুদের মুখে বিতরণ করে আনন্দ উপভোগ করেন ।এ সময় অনেকে বন্ধুদের মুখে পিঠা তুলে দিয়ে আবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল যে আমরা বাঙালি আমাদের ঐতিহ্য বাহী খাবার পিঠা-পুলি। মোট শিক্ষক ৬ জন বিষয় ভিত্তিক ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ।

স্কুল টি দ্বি-তলা ভবন,মোট ২১ টি কক্ষ বিশিষ্ট ।১০০ শতাংশ জমির উপর স্থাপিত ।তেইশ হাজার বর্গ ফুট খেলার মাঠ ।শিক্ষার্থীদের জন্য মোট আটটি ওয়াশ রুম ও একটি বিশ্রামাগার,একটি ল্যাব,একটি গ্রন্থাগার,নামাজের জন্য আলাদা কক্ষ আছে। হাওড় বাংলার পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সু-শিক্ষার আলো ছড়াতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।

ভাটাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফুল মিয়া সাথে কথা হলে তিনি বলেন ২০১৮ সালে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানটি আমাদের ভাটাপাড়া,পাল পাড়া,সলপ,মাইজ বাড়ি,রাজাপুর,রায়পুর সহ প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের হত দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েরা মানসম্মত শিক্ষার সহজ করে দিয়েছে যা এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার ,শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্ব পুর্ণ ভুমিকা পালন করছে।

কাফিয়া আক্তার বৃষ্টি ৭ম শ্রেণী রোল নম্বর ১ বলে ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সৃজনশীল, আনন্দ ঘন, নিরাপদ পরিবেশ, শিক্ষক বৃন্দের সহযোগিতা পূর্ণ আচরণে আমরা নির্ভয়ে অংশ গ্রহণ মূলক শিক্ষা অর্জন করতে পারছি। অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র আশিকুর রহমান বলে আমার বাবা নেই ২০১৮সালে এই স্কুলে ভর্তি হয়ে প্রিয় শিক্ষক বৃন্দের সহযোগিতা আমার শিক্ষা জীবনে উৎসাহ দিয়েছে যার জন্য আমার মা আমাকে কষ্ট হলেও স্কুলে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে ;আমি আজ অষ্টম শ্রেণীতে পড়ছি ।

ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী নীমা আক্তার বলে আমার বাবা নেই মা আমাকে অনেক কষ্ট করে পড়াশুনা করাচ্ছেন ।বর্ষা কালে আমরা পানি বন্দি হয়ে পরি। ফলে অধিকাংশ স্কুলের শিক্ষার্থীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে পড়ে ।কিন্তু আমাদের স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল থেকে নৌকার ব্যাবস্থা থাকায় আমরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারি।

আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুরনো দিনের অপবাদ ভুলে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখতে মিলিত হয়েছি স্কুল পার্টি উদযাপন করে বন্ধুদের মুখে পিঠা ও কেক খেয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করে রাখতেই এ আয়োজন। প্রধান শিক্ষক মহোদয় সাথে কথা হলে তিনি বলেন ১৯৬২ সালে ৬ সেপ্টেম্বর সুফিয়া আক্তার সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার ভাটাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তার বাবা কাচুমিয়া মা আখতার নেছা ।সাত ভাই-বোনের মধ্যে জোসনা তৃতীয় । ১৭ বছর বয়েস তিনি খুরশিদ মিয়ার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। পারিবারিক অস্বচ্ছতা ,পরিবারে অসুস্থ ও কর্মহীন স্বামীর কারনে সুফিয়া জীবিকার সন্ধানে ২০০৯ সালে পাড়ি জমান সংযুক্ত আরব আমিরাতে ।গৃহ পরিচারিকা কাজে সুন্দর কাটছিল তার জীবন। কিন্তু ২০১৪ সালে গৃহমালিক সপরিবারের সাথে সুফিয়া সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যান।

সেখানে ঐ পরিবারের ৬বছর ও ১০বছর বয়েসের দুটি শিশু সমুদ্রে পড়ে গেলে সুফিয়া জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি শিশুকে তীরে নিয়ে রেখে অন্য শিশুর তীরে নিয়ে এসে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং স্রোতের টানে সমুদ্রে ভেসে যায়। পরে মৃত দেহ উদ্ধার করে দুবাই সরকার বাংলাদেশে স্বজনদের কাছে পৌছিয়ে দেয়।বাঙ্গালি নারীর ঐ আত্মত্যাগ গোটা আরব আমিরাতকে নাড়া দেয়।

সাতটি আরব রাজ্যের সমন্বিত রাজতান্ত্রিক দেশটির খোদ প্রধানমন্ত্রী কাম ভাইস প্রেসিডেন্ট বিষয়টি আমলে নেয়।তারই নির্দেশে দুবাই কেয়ার নামে একটি সংস্থা এগিয়ে আসে সুফিয়াকে স্মরণীয় করে রাখতে ।তার স্মরণে ভাটাপাড়া গ্রামে স্থাপিত হয় ভাটাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ।যুগ যুগ ধরে হাওর পাড়ের অশিক্ষিত মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাবে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো