English|Bangla আজ ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার দুপুর ২:৫১
শিরোনাম

ফুলপুরে আমতৈল যুব সংঘের উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের ঈদ পুনর্মিলনী উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার : নীহার বকুল

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের যুব সংঘের উদ্যোগে ২য় বারের মতো ঈদ-উল-আযহার পূণর্মিলন উপলক্ষে বিভিন্ন ধরণের খেলার আয়োজন করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য খেলাগুলোর মধ্যে ছিলো ছোটদের জন্য গুপ্তধন উদ্ধার, যুবকদের রশ্মি টানাটানি, বয়স্কদের জন্য বল হাত বদল, চাচা আপন প্রাণ বাঁচা,পাতিল ভাঙ্গা ও আকর্ষণীয় ইভেন্ট যুবকদের ৮০০ মিটার সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন।

খেলারগুলোর আয়োজক কমিটির সভাপতি ছিলেন কাজীমদ্দিন। কেন এ আয়োজন এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা মফস্বলের মানুষ আনন্দ করার মতো কিছুই থাকে না, তাই প্রতিবৎসর ২ ঈদে এলাকার সবাই মিলে ঈদ পূণর্মিলন ঘটাতে এ আয়োজন করি।এবারও খেলা শুরু হয় সকাল ১০:৩০ মিনিটে। তিনি আরও বলেন,করোনার মাঝে সামাজির দূরত্ব বজায় রেখে খেলাধুলার চেষ্টা করা হলেও অনেকের অজ্ঞাতার জন্য পুরাপুরি তা সম্ভব হয়নি। তাই এ বিষয়ে আয়োজকগণ সবাই দুঃখ প্রকাশ করছি।

বিভিন্ন ইভেন্টের খেলাগুলো পরিচালনা করেন যুবকদের আইকন,তরুণ সমাজসেবক, উদ্যোক্তা ইব্রাহিম খলিল। তিনি বলেন,এই খেলাগুলো আমরা রূপসী ইউনিয়নের তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে সম্পন্ন করে থাকি। উক্ত খেলায় আমতৈল গ্রামের যে সকল স্বেচ্ছাসেবকেরা সহযোগিতা করেছেন তারা হলেন এনামূল হক, আব্দুল করিম, সুজন, শাহীন, হেলাল মিয়া, জুয়েল, শামীম, আনোয়ার, দেলোয়ার, আল আমিন, মুনতাজ, আব্দুল জলিল, বাবুল মিয়া তাদের কৃতজ্ঞতা জানাই।তিনি আরো বলেন, আমাদের আমতৈল গ্রামটি অনেক অবহেলিত কারণ এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি, সমাজের অধিকাংশ মানুষই অশিক্ষিত তারা কোন বিনোদনে অংশ গ্রহণ করতে পারেনা। তাই আমরা বিনোদন হিসেবে দ্বিতীয় বারের মতো এই খেলার আয়োজন করেছি। খেলায় অন্য গ্রামের খেলোয়াড়ও অংশগ্রহণ করেছে তাই আগামিতে বড়সড় আয়োজনের আশা করছি। বল হাত বদলের বিজয়ী হাবুল মিয়া (৪৬) বলেন, আমার জীবনে প্রথম কোন খেলার অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয় হয়েছি। খুব আনন্দ পেয়েছি। পুরস্কারে কথা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। চরেরভিটা গ্রামের বিজয়ী আজিজুল হক (৫০) বলেন আমি খুব খুশি আমি প্রথম হয়েছি। এটি আমার জীবনে প্রথম কোন খেলায় জিতেছি। ৮০০ মিটার সাঁতার বিজয়ী শরীফ বলেন ১৫ জন প্রতিযোগীর মধ্যে আমি প্রথম হবো তা কখনও ভাবিনি। খুব ভালো লাগছে আমার। আমি পরিচালকদের ধন্যবাদ জানায়।

গ্রামিন জনপদের মানুষের এ আনন্দ অব্যাহত থাকুক, তাদের বাঁধভাঙা আনন্দ বিশ্বকাপজয়ী কোন দলের চেয়েও কম ছিলো না, আবাল-বৃদ্ধ- বণিতাদের আনন্দ ছাপিয়ে আর করোনার আতংক কাটিয়ে এক চিলতে হাসির মূল্য কিছুতেই পরিমাপ যোগ্য নয়।তাই প্রতিটি গ্রামে এমন আয়োজন হোক।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো