English|Bangla আজ ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার সকাল ৯:৫৯
শিরোনাম
টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদননান্দাইলে মাস্ক না পরায় ২০ জনকে জরিমানা,মাদক আইনে একজনের ৭ দিনের কারাদণ্ডডিবি’র এস আই আলাউদ্দিনের দুটি অভিযানে বিপুল পরিমান মদ ও টাকা জব্দনান্দাইলে ২৫ কেজি বাগাই মাছ, দাম হাকাচ্ছে দেড় লাখ, উৎসুক জনতার ভিড়পলাশবাড়ীতে পাট বীজ চাষীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিতকোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিক হাসান ইমাম রাসেল’র জন্মদিন উদযাপনমোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২টি মামলায় ৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড।দাগনভূঞা উপজেলা মৌসুমী বীজ ও সার কর্মসূচী শুভ উদ্বোধনবাইশারীতে বিজয় স্মৃতি নাইন সেট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এর শুভ উদ্বোধনঅন্যের বাড়ীর রান্না ঘরে বসবাস: পিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ কিশোরীর

নূরুজ্জামান সরকার নীহার বকুলের জন্মদিন আজ

সম্পাদক, একাত্তর জার্নাল।

ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার রাংসা নদীর পাড়ের আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর প্রধান শিক্ষক, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, সৎ আদর্শ সাংবাদকর্মী নূরুজ্জামান সরকার নীহার বকুলের জন্মদিন আজ।

১৯৭৬ সালের আজকের এই দিনে তিনি তদানিন্তন ফুলপুর থানার (বর্তমানে তারাকান্দা উপজেলা) তারাকান্দা ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের প্রসিদ্ধ হাজী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৭ সাল হতে রাজনীতির সাথে জড়িত রাজনৈতিক এ ব্যাক্তি ছাত্রনেতা হিসেবে সমধিক পরিচিত।ফুলপুর – তারাকান্দার অবিসংবাদিত নেতা ভাষাসৈনিক ৫বার এম,পি ১ বার উপজেলার চেয়ারম্যান মরহুম শামছুল হক এম,পি সাহেবের কাছে রাজনৈতিক দীক্ষা নিয়ে তাঁকে আঁকড়ে ধরে জনসেবায় ব্রতী হয়ে সামনে এগিয়ে চলেছেন।

সরকারী চাকুরী, বাবার ব্যবসা বাণিজ্য, লুটপাটের রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার কোনকিছুতেই ছিলো না আসক্তি এখনো নেই। তার এক কথা, “পদ বা চেয়ার অথবা ক্ষমতা আমার দরকার নেই, মানুষ হয়ে জন্মেছি, মানবতার জন্য কাজ করতে চাই আমৃত্যু, শুধু শেষ বিদায়ক্ষণে সবার দোয়া ও সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি হলেই আমার মানব জীবন ধন্য। “তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তারাকান্দায় ‘নীহারিকা যুব সংঘ’ যার অবদান তারাকান্দার সবাই জানে, বঙ্গবন্ধু সরকারী ডিগ্রী কলেজের পরিচালনা পরিষদে দায়িত্বপালন করেছেন ১২ বছর, শামছুল হক সাহেবের নির্দেশনা মোতাবেক কলেজের জন্য সাহায্য আদায়, বাড়ি বাড়ি মুষ্ঠির চাউল তোলা, মাটি কাটা, শিক্ষার্থী সংগ্রহের কাজ করেছেন।

তারাকান্দা ছাত্রলীগের কমিটি আলাদা বাস্তবায়ন করে প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন, তারাকান্দা থানা ও উপজেলা বাস্তবায়ন আন্দোলনে শামছুল হক এম,পির নির্দেশনায় লড়াই সংগ্রাম করেছেন দিনরাত। তার নেতৃত্বে হাজারো ছাত্রনেতা জননেতা শামছুল হক এম,পির শিষ্যত্বগ্রহণ করে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে মামলা, হামলা, হুলিয়া নিয়ে পালিয়ে থেকে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন।

দলীয় যেকোন কাজে সবার আগে বিনা লাভে কাজ করা এ নেতা উপজেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ১৪৭, ময়মনসিংহ -২ আসনের মাননীয় সাংসদ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এম,পি সাহেবের প্রিয়ভাজন তিনি তার সততা ও আদর্শের আর দলের প্রতি বিনাস্বার্থে কাজ করার জন্য। দলীয় প্রতিটি নির্বাচনে তার ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার তা তার প্রতিপক্ষ ও শত্রুজনেরাও স্বীকার করে।

ব্যাক্তিগত জীবনে একছেলে একমেয়ের বাবা তিনি। স্ত্রী কামরুন নাহার তারাকান্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সবার কাছে নন্দিত নারী নেত্রী। স্বামীর প্রতি অগাধ প্রেম ও বিশ্বাস রয়েছে এ মহান হৃদয়ের নারীর, তার অনুপ্রেরণা নীহার বকুলকে এগিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বাবা হাজি আবুল হোসেন ছিলেন সৎ ব্যবসায়ী ও বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। মা সুলতানা রাজিয়া বেগম গৃহিণী ও ধার্মিক দানশীল নারী ছিলেন। ভাই বোন সবাই স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

তার মামা ও শ্বশুর ফুলপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ও সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসার আব্দুল হামিদ।দাদা হাজি আব্বাস আলী ও নানা ইন্জর আলী সরকারের পরিচয় আলাদাভাবে দিতে হয়না। এলাকায় তাদের গুণকীর্তন সবার মুখে মুখে।

এলাকায় ৪ মসজিদ, ৩টি মাদ্রাসা, ১টি বালিকা বিদ্যালয়, ২টি এতিমখানা, বহু রাস্তা, ২টি গোরস্তান, ১টি শশ্বান, স্কুল সহ নানা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি ও তার পরিবার ও গোষ্ঠীর সবাই মিলে।

ছোটকাল হতেই শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি আর খেলাধুলা নেতৃত্বগুণের অধিকারি মানুষটি এখনো এসব নিয়েই সর্বদাই চিন্তামগ্ন থাকেন। এখনো ১৪/১৫ টি সংগঠনের দায়িত্ব জোড়পূর্বক তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান।পরোপকার করে বেড়ানো বোহেমিয়ান টাইপের এ মানুষটি সবাই সবকাজে ডাকে, জাতীয় অনুষ্ঠান গুলোতে এলাকার শিক্ষার্থীদের নিয়ে নানান অনুষ্ঠান করাতে দিনের পর দিন টাকা পয়সা খরচ করে রিহার্সাল দিয়ে অপসংস্কৃতির মুখে চপেটাঘাত করে দেশিয় নাটিকা, নৃত্যকলা, গান, আবৃত্তির পসরা সাজিয়ে নিজেই উপস্থাপনার/পরিচালনার দায়িত্ব নেন।সারাদেশ হতে কবি সাহিত্যিক শিল্পী দার্শনিক গুণিজনদের সম্মিলন ঘটান তাদের সংগঠনের মাধ্যমে নিজের বাসায় অফিসে শিল্পের সমজদার যারা তাদের কদর তার কাছে সবার আগে।

অনেকেই তাকে প্রতিপক্ষ ভাবেন ভুলবশত, আসলে তিনি সাদামনের মানুষ, ৩টি উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমা দিলেও দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনায় ২ বার প্রত্যাহার করেন। ১ বার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, কিন্তু দলের ২জন প্রার্থী থাকায় বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করে। তবে সকল দলের মানুষই তাকে ভালো মানুষ হিসেবে ভালোবাসেন ও সম্মান করে থাকেন। তিনি সবার কাছে একটি কথাই বলেন, যেকেউ ভালো কাজ করুক আমি সাহায্য করবো, আমার নিজের কোন পদ বা চেয়ার এর প্রতি কোনকালে কোন লোভলালসা নেই। অর্থের মোহ কোনকালেই ছিলোনা। তাই বন্ধু ভাবেন আমায় প্রতিপক্ষ না। সৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব মানবতার সেবক, দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ যেকোন মানুষের জন্য তার জীবনবাজি রাখতে প্রস্তুত, কিন্তু অন্যায়ের বিরোদ্ধে তার বজ্রকন্ঠ সর্বদাই সোচ্চার থাকবে বলে অঙ্গিকার ব্যাক্ত করেন, সে যেই হোক যে দলেরই হোক।

বই পড়া ও অবসরে গান শুনা আর সুযোগ পেলেই দেশ বিদেশে ভ্রমনে বের হওয়া তার প্রিয় সখ। সংসার জীবনের প্রতি উদাসীন এ মানুষটি সারাক্ষণ এলাকার মানুষের আপদবিপদ, দেনদরবার, সহযোগীতা, আর স্বেচ্ছাসেবী নানান সংগঠনের মাঝেই নিজেকে ডুবিয়ে রাখেন। দেশ, দেশের জনগণের উন্নয়ন ভাবনা, এলাকার উন্নয়ন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের রক্ষা, জনদূর্ভোগ লাগব, দুর্নীতির বিরোদ্ধে ক্ষুরধার লিখনির জন্য সবার কাছে তিনি অকুতোভয় নির্ভীক প্রিয়জন প্রিয় সাংবাদকর্মী। তার সাহায্য নিয়ে পড়াশুনা করে আজ অনেকেই প্রতিষ্ঠিত এতেই আনন্দ পান তিনি। হাজারো স্কুল, কলেজ পড়ুয়াকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করছে অনুশীলন সাহিত্য সংসদ ও পাঠাগার তার সাধারন সম্পাদক ও বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার সম্পাদিত ছোটকাগজ নীহারিকা, অল্পবিস্তর লেখালেখি করেন অবসরে।

এছাড়াও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, ২টি মানবাধিকার সংগঠন, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি, একাধারে ৯ বছর ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব সহ বহু সংগঠনের সাথে তিনি জড়িত। তাছাড়া জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্বের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। প্রতিদিন নিজস্ব চেম্বারে এলাকার অসহায় দরিদ্র, নির্যাতিত মানুষের জন্য রাতদিন কাজ করে যান আপন মনে বিনা স্বার্থে।

সামাজিক নানান আন্দোলনে উদ্যোগী ভূমিকার জন্য তিনি এলাকায় অভিনন্দিত।বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিল্প সাহিত্য ও খেলাধুলায় বিশেষ অবদানের জন্য নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। আজ তার জন্মদিনে দৈনিক একাত্তর জার্নাল পরিবারের পক্ষ হতে শুভ কামনা জানাই। নীহার বকুল সবার ভালোবাসা নিয়ে দীর্ঘজীবন লাভ করে সুবাস ছড়াক এ কামনা করি।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো