English|Bangla আজ ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার বিকাল ৫:১১
শিরোনাম
স্বপ্নের ফুলবাড়ী স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালিতমহেশপুরের আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করলেন মাননীয় জেলা প্রশাসকনরসিংদীতে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড ২৭৯ জনপবিত্রতা ও তওবার মাধ্যমে করোনা রোগমুক্তি শতভাগ সম্ভব- সংবাদ সম্মেলনে পীর লিয়াকত আলী খানদাগনভূঞা পৌরসভা করোনা ভাইরাস এর সংক্রমন ও প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্টিতরাণীনগরে চুরির ঘটনায় চার জন গ্রেফতার চোরাই মালামাল উদ্ধারনৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অগ্রগতি পর্যালোচনা ভার্চুয়াল সভাদিনাজপুর বিরল উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবকলীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিতখানসামায় ট্রাক-ট্রাঙ্কলরী শ্রমিকদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দিলেন ইউএনওউলিপুরে রাস্তায় মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধা মহিলার মৃত্যু

চরফ্যাশনে অবৈধভাবে ৩০টি ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে বনের কাঠ

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার চরফ্যাসন উপজেলায় রয়েছে ৩৫টি ইটভাটা। এর মধ্যে ৩০টি ইটভাটা চলছে অবৈধভাবে। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের কাঠ পুড়িয়ে চলছে এসব ভাটা। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ইটভাটা স্থাপন অব্যাহত রয়েছে।

টাকার বিনিময়ে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে ইটভাটা স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন মাঝেমধ্যে দায়সারা অভিযান চালালেও এসব ইটভাটা মালিককে ঠেকাতে পারেনি। সম্প্রতি তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ঘেঁষে গড়ে ওঠা সিফাত ইটভাটা বন্ধ করে দিলেও কিছুদিন পর ফের চালু হয়ে যায় ওই ইটভাটাটি।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন ও ২০০১ সালের (সংশোধিত) ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী আবাদি জমি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, চরফ্যাসন উপজেলায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চরফ্যাসন উপজেলায় ৩৫টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র পাঁচটির অনুমোদন রয়েছে। আর বাকি ৩০টি ইটভাটার কোনো অনুমোদন নেই। ইটভাটা মালিকরা কয়েক দফা আবেদন করলেও পরিবেশ আইনবহির্ভূত হওয়ায় অনুমোদন নিতে পারেননি। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ ইটভাটা। অনুমোদিত পাঁচটি ইটভাটা ছাড়া বাকিগুলোর কোনোটিই নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে না। অধিকাংশ ভাটায় ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনি নেই। ভাটাগুলোর বেশির ভাগই ড্রাম চিমনি ব্যবহার করে স্থাপিত হয়েছে। লোকালয়ে অবস্থিত হওয়ায় এবং ব্যারেল চিমনি ব্যবহার করায় ওইসব এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। অনেকে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন।

ইটভাটা মালিকরা জানান, নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভাটায় ইট পোড়ানোর মৌসুম। সাধারণত এক চিমনির একটি ভাটায় এক মৌসুমে ২৭ থেকে ২৮ লাখ ইট তৈরি হয়। আর দুই চিমনির ভাটায় এক মৌসুমে ৫০ লাখ পর্যন্ত ইট তৈরি করা সম্ভব। এক লাখ ইট পোড়াতে কাঠ লাগে দুই হাজার মণ। এই হিসাব অনুযায়ী উপজেলার ইটভাটাগুলোতে কোটি কোটি মণ কাঠ পোড়ানো হয়। তবে প্রকৃত হিসাব এর চেয়ে অনেক বেশি বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইটভাটার মালিক জানান, বেশির ভাগ ইটভাটারই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। আবেদন করে এক বছরে সীমিত সংখ্যক ইট পোড়ানোর অনুমতি নিয়ে কাজ করছেন তারা। এ ছাড়া প্রতি বছর এলআর ফান্ডে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ করে থাকেন। উপজেলা জলবায়ু ফোরামের নেতৃবৃন্দরা বলছেন এ ধরনের ইটভাটার জন্য দুষিত হচ্ছে পরিবেশ ফলে কার্বনের মাত্রা বাড়ছে বাতাসে।

উপজেলা বন কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, এ বছর আমার জানা মতে ইটভাটায় ম্যানগ্রোভ বনের কাঠ ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে না। যদি অভিযোগের সত্যতা পাই তাহলে ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল মালেক জানান, চরফ্যাসন উপজেলার ড্রাম চিমনি ইটভাটাগুলোকে ইট না পোড়ানোর নোটিশ করা হয়েছে। আমরা শিগগিরই অভিযান চালাব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইট পোড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো