English|Bangla আজ ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার রাত ১:১৬
শিরোনাম
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে লাউডোব ইউনিয়ন আ’লীগের আলোচনা সভা:নবীনগরে মুজাক্কির হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন নবীনগর থানা প্রেসক্লাব।নওগাঁয় সকালে তালিকা থেকে বাদ ॥ দুপুরে মৃত্যু ॥ বিকেলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ॥ এলাকায় আলোচনার ঝড়পলাশবাড়ীতে প্রমীলা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিতবান্দরবা‌নে ভাল্লুকের আক্রমণে আহত ৩ফুলছড়ির চরের ভুট্রাক্ষেত থেকে যুবতীর লাশ উদ্ধারহারাগাছ পৌর নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে জোড় প্রচারে আ.লীগের মেয়র প্রার্থীচরফ্যাশন পৌর নির্বাচনে শেষ মুহুর্তে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরাফুলছড়িতে ভূমি অফিস নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন-ডেপুটি স্পীকারখানসামায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য গীতা বিদ্যালয় উদ্বোধন।

চরফ্যাশনে অবৈধভাবে ৩০টি ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে বনের কাঠ

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার চরফ্যাসন উপজেলায় রয়েছে ৩৫টি ইটভাটা। এর মধ্যে ৩০টি ইটভাটা চলছে অবৈধভাবে। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের কাঠ পুড়িয়ে চলছে এসব ভাটা। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ইটভাটা স্থাপন অব্যাহত রয়েছে।

টাকার বিনিময়ে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে ইটভাটা স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন মাঝেমধ্যে দায়সারা অভিযান চালালেও এসব ইটভাটা মালিককে ঠেকাতে পারেনি। সম্প্রতি তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ঘেঁষে গড়ে ওঠা সিফাত ইটভাটা বন্ধ করে দিলেও কিছুদিন পর ফের চালু হয়ে যায় ওই ইটভাটাটি।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন ও ২০০১ সালের (সংশোধিত) ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী আবাদি জমি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, চরফ্যাসন উপজেলায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চরফ্যাসন উপজেলায় ৩৫টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র পাঁচটির অনুমোদন রয়েছে। আর বাকি ৩০টি ইটভাটার কোনো অনুমোদন নেই। ইটভাটা মালিকরা কয়েক দফা আবেদন করলেও পরিবেশ আইনবহির্ভূত হওয়ায় অনুমোদন নিতে পারেননি। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ ইটভাটা। অনুমোদিত পাঁচটি ইটভাটা ছাড়া বাকিগুলোর কোনোটিই নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে না। অধিকাংশ ভাটায় ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনি নেই। ভাটাগুলোর বেশির ভাগই ড্রাম চিমনি ব্যবহার করে স্থাপিত হয়েছে। লোকালয়ে অবস্থিত হওয়ায় এবং ব্যারেল চিমনি ব্যবহার করায় ওইসব এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। অনেকে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন।

ইটভাটা মালিকরা জানান, নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভাটায় ইট পোড়ানোর মৌসুম। সাধারণত এক চিমনির একটি ভাটায় এক মৌসুমে ২৭ থেকে ২৮ লাখ ইট তৈরি হয়। আর দুই চিমনির ভাটায় এক মৌসুমে ৫০ লাখ পর্যন্ত ইট তৈরি করা সম্ভব। এক লাখ ইট পোড়াতে কাঠ লাগে দুই হাজার মণ। এই হিসাব অনুযায়ী উপজেলার ইটভাটাগুলোতে কোটি কোটি মণ কাঠ পোড়ানো হয়। তবে প্রকৃত হিসাব এর চেয়ে অনেক বেশি বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইটভাটার মালিক জানান, বেশির ভাগ ইটভাটারই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। আবেদন করে এক বছরে সীমিত সংখ্যক ইট পোড়ানোর অনুমতি নিয়ে কাজ করছেন তারা। এ ছাড়া প্রতি বছর এলআর ফান্ডে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ করে থাকেন। উপজেলা জলবায়ু ফোরামের নেতৃবৃন্দরা বলছেন এ ধরনের ইটভাটার জন্য দুষিত হচ্ছে পরিবেশ ফলে কার্বনের মাত্রা বাড়ছে বাতাসে।

উপজেলা বন কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, এ বছর আমার জানা মতে ইটভাটায় ম্যানগ্রোভ বনের কাঠ ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে না। যদি অভিযোগের সত্যতা পাই তাহলে ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল মালেক জানান, চরফ্যাসন উপজেলার ড্রাম চিমনি ইটভাটাগুলোকে ইট না পোড়ানোর নোটিশ করা হয়েছে। আমরা শিগগিরই অভিযান চালাব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইট পোড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো