English|Bangla আজ ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার সকাল ৬:১০
শিরোনাম
লক্ষ্মীপুর-২ সংসদ উপনির্বাচন: নৌকার প্রার্থীর বিজয়পত্নীতলায় সরকারি নির্দেশনা না মানায় ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানাপলাশবাড়ীর হোসেনপুর ইউনিয়নে ভিজিডি কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিতরণনরসিংদীতে পলাশের ডাংগা ইউনিয়নে আ.লীগ প্রার্থী ও গজারিয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়লাভতাহিরপুর অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায় এক লক্ষ টাকা জরিমানাসিএমপি’র স্কুল এন্ড কলেজকে নিটল মটরস লিমিটেড কর্তৃক ০১টি পরিবহন বাসের চাবি সিএমপি পুলিশ কমিশনার মহোদয়কে হস্তান্তর অনুষ্ঠানকুমিল্লা সদরের উঃকালিয়াজুরী কোড়ের পাড়ের রাস্তাটি আবাও দখল মুক্তদাউদকান্দিতে স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে স্ত্রী’র আত্মহত্যা!একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই খোঁচ্ছে রোকিয়ারায়পুরে পুকুরে ডুবে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

গাইবান্ধায় শান্তিপূর্ণ অর্ধদিবস হরতাল পালিত

আল কাদরি কিবরিয়া সবুজ, (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:- গাইবান্ধা জেলা শহরে ১০ জুন বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়েছে। সকাল ছয়টায় হরতাল শুরু হয়ে চলে দুপুর দুইটা পর্যন্ত। ব্যবসায়ী হাসান আলী হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার এবং সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) অপসারণসহ চার দফা দাবিতে এই হরতাল ডাকে হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চ।১০ জুন বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হরতালকারীরা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা হাসান হত্যার বিচারের দাবি ও ওসির অপসারণ চেয়ে শ্লোগান দেন। হরতালের সমর্থনে শহরের মার্কেট, দোকানপাট ও সবধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছিলেন ব্যবসায়ীরা। দূরপাল্লার কিছু যানবাহন চলেছে। শহরের রাস্তাগুলোতে জরুরী প্রয়োজনে সীমিত আকারে রিকশা-ভ্যান, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকসহ যানবাহন চলতে দেখা গেছে। অফিস-আদালত খোলা থাকলেও উপস্থিতি ছিল কম।সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমানের অপসারণসহ চার দফা দাবিতে গত ৩১ মে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চ। অবস্থান কর্মসূচি থেকে সাত দিনের মধ্যে সদর থানার ওসির অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছিল। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে অপসারণ না হলে আজ বৃহস্পতিবার হরতাল পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল।

চার দফা দাবিগুলো হচ্ছে অবিলম্বে সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমানের অপসারণ, হাসান হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার, সদর থানার অভিযুক্ত পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবুর রহমান ও সহকারী উপপরিদর্শক মোশারফ হোসেনকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন এবং গাইবান্ধা জেলায় অবৈধ দাদন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা।

হরতাল সফল করতে সকাল থেকে ট্রাফিক মোড়, সার্কুলার রোড ও রেলগেট এলাকায় হরতাল সমর্থক ‘হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চে’র নেতৃবৃন্দ খন্ড খন্ড বিক্ষোভ মিছিলসহ পিকেটিং করেন। এছাড়া শহরের ডিবি রোডের ১নং ট্রাফিক মোড়ে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিং-এর পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, শ্রমিক, ছাত্র, যুব, নারী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হরতাল চলাকালীন সময়ে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে পথসভা করেন।

এসব পথসভায় বক্তব্য দেন- হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চের সমন্বয়ক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ আমিনুল ইসলাম গোলাপ, সিপিবি জেলা সভাপতি মিহির ঘোষ, জেলা জাসদ সভাপতি গোলাম মারুফ মনা, জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু প্রমুখ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে জাসদের জিয়াউল হক জনি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের মনজুর আলম মিঠু, বাসদের গোলাম রব্বানী, সিপিবির মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, ক্রীড়া পরিবারের ওয়াজিউর রহমান রাফেল, ওয়ার্কার্স পার্টির প্রণব চৌধুরি খোকন, মিলন কান্তি সরকার, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কাজী আবু রাহেন শফিউল্যাহ খোকন, নিলুফার ইয়াছমিন শিল্পী, কৃষক শ্রমিক জনতালীগের মোস্তফা মনিরুজ্জামান, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী)’র মৃণাল কান্তি বর্মণসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

হরতাল সফল করার জন্য গাইবান্ধাবাসীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে মঞ্চের সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম গোলাপ বলেন, অবিলম্বে সদর থানার ওসি মাহফুজারকে অপসারণ না করা হলে আমরা পরবর্তীতে নেতৃবৃন্দ বসে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ কঠোর কর্মসূচি দেব। দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এদিকে, হরতালে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে। অপরদিকে বেলা ১২টার দিকে জেলা শহরে হরতালবিরোধী একটি মিছিল বের করে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ১নং ট্রাফিক মোড়ে এসে শেষ হয়।
পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের জেলা নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে তারা গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক প্রেস বিফ্রিং করে।

উল্লেখ্য, সুদের টাকা লেনদেনের জেরে গত ৫ মার্চ শহরের জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলীকে তুলে নিয়ে গিয়ে বাড়িতে আটক রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত উপ-দফতর সম্পাদক মাসুদ রানা। তাকে উদ্ধারের জন্য ১৫ মার্চ সদর থানায় অভিযোগ করেন হাসানের স্ত্রী বিথী বেগম। পরে পুলিশ মাসুদ রানার বাড়ি থেকে হাসানকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু থানা থেকে হাসানকে আবারও মাসুদের জিম্মায় দেয় পুলিশ। এরপর গত ১০ এপ্রিল মাসুদের বাড়ি থেকে হাসানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত হাসান আলী শহরের থানাপাড়া এলাকার মৃত হজরত আলীর ছেলে এবং আফজাল সুজ গাইবান্ধা শাখার সাবেক মালিক। লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে নিহতের স্ত্রী বীথি বেগম সদর থানায় মাসুদ রানাসহ তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মাসুদ রানা কারাগারে থাকলেও অপর দুই আসামিকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো