English|Bangla আজ ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার রাত ৯:১৪
শিরোনাম
উখিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কমরুদ্দিন মুকুলের বিবৃতিনওগাঁয় মানবাধিকার  ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মাস্ক বিতরণসাপাহারে বরেন্দ্র বাতিঘর পাঠাগারের শুভ উদ্বোধনগৌরীপুরে আব্দুল রউফের উপর সন্ত্রাসী হামলা৯৯৯ কলে পুলিশের সহযোগীতায় জীবন বাঁচলো সোমার।খানসামার পুরোনো ঐতিহ্যের জয়সঙ্কর জমিদার বাড়িটি এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তেসুন্দরগঞ্জে শিশুকে অপহরণের পর হত্যা মামলার ১০ আসামী খালাসগাইবান্ধা সদর বোয়ালী ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হয়ে বৈঠা ধরতে চান যুবলীগ নেতা তুহিনচাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুলছাত্রীর উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দুই চাচাকে মারধররাণীনগরে ১১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ বিতরণ

এনজিও-র কনসেপ্ট বদলে দিয়েছে আবেদ : ড. ইউনুস

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের মৃত্যুতে নিজের ভেরিয়ফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন নোবেলজয়ী ড. ইউনুস। শনিবার দেয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, আবেদ সারা বিশ্বে এনজিও-র কনসেপ্ট বদলে দিয়েছে। একটি এনজিও দেশব্যাপী প্রায় সকল সমস্যার সামগ্রিক সমাধান দেবার জন্য এগিয়ে আসতে পারবে এরকম ধারণা ছিল একেবারে অকল্পনীয়। দেশে বিদেশে অসংখ্য রকম প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচি নিয়ে একটি বিশালায়তনের এনজিও-র ধারণা আবেদই দিয়ে গেলো।

শুক্রবার রাতে ইন্তেকাল করেছেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা। মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্যক্তিগত জীবনে ড. ইউনুস ও ফজলে হাসান আবেদের মধ্যে ছিল চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।

‘তুমি আমাদের চিরসাথী’ শিরোনামে দেয়া ড. ইউনুসের স্ট্যাটাসটি হুবুহু দেয়া এখানে দেয়া হলো :-

তুমি আমাদের চিরসাথী
আবেদ চলে গেলো। কিন্তু তাকে বিদায় জানানো সম্ভব হবে না। সে আমাদের চিরসাথী হয়ে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে। সমাজের কোনো পরত নেই যেখানে আবেদের কর্মকান্ডের বাতাস লাগেনি। বাংলাদেশে সমাজের যে বিপুল পরিবর্তন হয়েছে আবেদ তার প্রধান রূপকার। সমাজের যত ভাঙ্গাচোরা অলিগলি, চোরাবালি, অলীক নিয়মনীতির ফাঁদ সর্বত্র ছড়িয়ে ছিল সবকিছুতে আবেদ তার সৃজনশীল প্রতিভার ছোঁয়া লাগিয়েছে। এই ছোঁয়া লাগিয়ে সবকিছু পাল্টে দিয়ে তাকে নতুন কাঠামোয় নিয়ে আসাই ছিল আবেদের ব্রত।

এটা বললে বোধ হয় বাড়িয়ে বলা হবে না যে, বাংলাদেশের সতেরো কোটি মানুষের মধ্যে খুব কম মানুষই আছেন যিনি জীবনে কোনো না কোনোভাবে আবেদের কর্মকান্ডের সুফল ভোগ করেন নি। আর তিনি যদি হন বিশাল গ্রাম বাংলার দরিদ্রদের একজন, মহিলাদের একজন তাহলে তো তাঁকে জীবনের প্রতি পদক্ষেপে আবেদের সাক্ষাৎ পেতে হয়েছে – শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোজগার, আত্মোপলদ্ধি, আরো অনেক কিছুতে। আমাদের অজান্তে যে-আবেদ আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী তাকে আমরা বিদায় জানাবো কীভাবে?

আবেদ বাংলাদেশের গরীব মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির অসাধারণ কারিগর। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক দৈন্যের মুক্তিদাতা।

সে নিরবে তার বিশাল কর্মকান্ড গড়ে তুলেছে। সে মানুষকে ডাক দিয়ে বসে থাকেনি, একাই এগিয়ে গেছে। সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে। সে একাই এগিয়ে গেছে – একেবারে পুরো কাজটা সমাধা করার জন্য।

আবেদ সারা বিশ্বে এনজিও-র কনসেপ্ট বদলে দিয়েছে। একটি এনজিও দেশব্যাপী প্রায় সকল সমস্যার সামগ্রিক সমাধান দেবার জন্য এগিয়ে আসতে পারবে এরকম ধারণা ছিল একেবারে অকল্পনীয়। দেশে বিদেশে অসংখ্য রকম প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচি নিয়ে একটি বিশালায়তনের এনজিও-র ধারণা আবেদই দিয়ে গেলো। তার চাইতেও তার বড় অবদান একক এনজিও ও বহুমাত্রিক এনজিও-র ব্যবস্থাপনাকে একটা নতুন বিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়ে যেতে পারা। এই অবদান তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। ভারত পাকিস্তান নেপাল শ্রীলংকার অর্থনৈতিক গবেষকদের কাছ থেকে বরাবরই একটি প্রশ্ন আসে: বাংলাদেশে যে যা-ই করে সেটা দেশব্যাপী করে ফেলে – আমাদের দেশে এরকম হয়না কেন? আমার বরাবরের জবাব ছিল তোমাদের দেশে ত এখনো আবেদের জন্ম হয়নি।

আবেদ একটি আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশ তৈরী করে দিয়ে গেছে। তার দুরন্ত সাহস, আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতার কাহিনী আগামী সকল প্রজন্মকে অনবরতভাবে শক্তি যুগিয়ে যাবে। বহু প্রজন্ম পরেও আবেদ তাদের কাছে বাংলাদেশ হয়ে বেঁচে থাকবে।

তুমি যে-বাংলাদেশ বানিয়ে দিয়ে গেছো তার বুনিয়াদের উপর দ্রুত আমাদের কাঙ্খিত বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব নেয়া পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সহজ হলো।

আবেদ, তোমার কাছে জাতি চিরকৃতজ্ঞ হয়ে থাকবে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো