English|Bangla আজ ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার বিকাল ৩:২৯
শিরোনাম
স্বপ্নের ফুলবাড়ী স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালিতমহেশপুরের আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করলেন মাননীয় জেলা প্রশাসকনরসিংদীতে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড ২৭৯ জনপবিত্রতা ও তওবার মাধ্যমে করোনা রোগমুক্তি শতভাগ সম্ভব- সংবাদ সম্মেলনে পীর লিয়াকত আলী খানদাগনভূঞা পৌরসভা করোনা ভাইরাস এর সংক্রমন ও প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্টিতরাণীনগরে চুরির ঘটনায় চার জন গ্রেফতার চোরাই মালামাল উদ্ধারনৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অগ্রগতি পর্যালোচনা ভার্চুয়াল সভাদিনাজপুর বিরল উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবকলীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিতখানসামায় ট্রাক-ট্রাঙ্কলরী শ্রমিকদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দিলেন ইউএনওউলিপুরে রাস্তায় মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধা মহিলার মৃত্যু

ইরাকজুড়ে রক্তাক্ত সহিংসতা, নিহত ৮৩

ইরাকের নাজাফে ইরানি কনস্যুলেটে হামলার জেরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভের আগুন। বিক্ষোভকারীদের প্রতিহত করতে নির্বিচার গুলি চালাচ্ছে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে এখন পর্যন্ত ৮৩ জন ইরাকি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আলজাজিরা ও আর নিউজ।

গতকাল ২৮ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী বাগদাদসহ নাজাফ ও নাসারিয়া শহরে বিক্ষোভকারীদের গুলিতে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

প্রথম গোলাগুলির ঘটনা ঘটে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজাফে। সেখানে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট ভবনে ঢুকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় তাদের হঠাতে গুলি চালায় পুলিশ। এসময় ঘটনাস্থলেই এক বিক্ষোভকারী নিহত এবং আরো ৩৫ বিক্ষাভকারী নিহত হন। এর পরপরই ওই শহরে কারফিউ জারি করা হয়।

রয়টার্স জানায়, নাজাফে ইরানি কনস্যুলেটে জ্বালিয়ে দেয়ার সময় ইরাকি বিক্ষোভকারীরা দেশটিতে ইরানি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।

অগ্নিসংযোগের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় ইরান। এরপর ইরাকি সরকার বিক্ষোভ দমনে শক্তি প্রয়োগ করে। এতে নাজাফে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। সেদিন অন্তত ১২ জন প্রাণ হারায়।

এরপর দেশটির রাজধানী বাগদাদ, গুরুত্বপূর্ণ শহর নাসারিয়াসহ দেশজুড়ে বিক্ষোভ দেখা দেয়। বাগদাদে টাইগ্রিস নদীর কাছে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের ছোড়া তাজা বুলেটে নিহত হয় ৪ জন।

বড় ধরনের বিক্ষোভ দেখায় নাসিরিয়াবাসী। সেখানেও দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২৯ জন প্রাণ হারায়। শহরটিতেও তাজা বুলেট ও টিয়ার গ্যাস ছুড়ে পুলিশ। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী। তবে সাধারণ মানুষ কারফিউ ভেঙে রাস্তায় আসে।

ইরাকি সরকার ও তাদের সমর্থক প্রতিবেশী ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদে ক্ষোভ ঝাড়তে বিভিন্ন সড়কে সহিংস বিক্ষোভে ফেটে পড়েন উত্তেজিত জনতা। ২০০৩ সালে মার্কিন হামলায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতের পর এই প্রথমবার এতো ভয়াবহ মাপের সহিংসতা দেখা দিয়েছে ইরাকের সড়কে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদে নাজাফে ৪৫, নাসিরিয়ায় ২৯ এবং বাগদাদে কমপক্ষে ৮ বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন। এসব সহিংসতায় আরো শত শত মানুষ আহত হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিক্ষোভ দেখাচ্ছে নাসারিয়াবাসী। শুধুমাত্র এ শহরেই আহত হয়েছেন কমপক্ষে আড়াইশ’ মানুষ।

এদিকে দেশ জুড়ে সহিংস বিক্ষোভের জেড়ে দেশটির নতুন সেনা কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জামিল আল-শাম্মারিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, নিয়োগ দেয়ার মাত্র একদিন পরই ওই সেনা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়।

দুর্নীতি ও বেকারত্বের প্রতিবাদে ১ অক্টোবর রাজধানী বাগদাদসহ অন্যান্য শহরে রাস্তায় নেমে আসে লাখো জনতা। প্রথম দফায় চলা বিক্ষোভে প্রায় ২ শতাধিক মানুষের প্রাণ যায়। দফায় দফায় বিক্ষোভে দেশটিতে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৩শ’ মানুষ নিহত হয়েছেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো