English|Bangla আজ ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার সকাল ৯:১৯
শিরোনাম
অবহেলা শিকার স্বেচ্ছা রক্তদাতারা -জান্নাত আরা জুঁইপলাশবাড়ীতে র‌্যাবের অভিযানে মাদক ও অর্থসহ গ্রেফতার-১পাটগ্রামে শিক্ষার্থীদের মাঝে র‌্যাবের মাদক ও জঙ্গিবিরোধী প্রচারণাভারত থেকে অবৈধভাবে ফেরার পথে দহগ্রামে দুই বাংলাদেশী আটকপাটগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনবান্দরবানে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধারপাটগ্রাম প্রেসক্লাবে উপহার সামগ্রী প্রদান“বিসকা ইউনিয়নের ১ ইঞ্চি রাস্তাও কাঁচা থাকবেনা”রাস্তা উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে বললেন বাবুল মিয়া সরকার।পলাশবাড়ীতে ডায়াবেটিকস সমিতির ওয়াশরুম উদ্বোধনখানসামায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করায় আনন্দ মিছিল

অবহেলা শিকার স্বেচ্ছা রক্তদাতারা -জান্নাত আরা জুঁই

স্টাফ রিপোটার ঃ

রক্তদান একটি মহৎ কর্ম।দেশ ও সমাজের মহৎ কর্মগুলোর মধ্যে রক্তদান অন্যতম।একজন ব্যক্তির স্বেচ্ছায় দেয়া রক্তের বিনিময়ে বাঁচতে পারে একটি প্রাণ। আজ আলোচনা করবো একজন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সব জায়গায় কীভাবে অবহেলিত হয় সেটা নিয়ে ।
শারমিন আপু গর্ভবতী ।ডাঃ বলেছেন আপুর সিজার লাগবে নর্মাল ডেলিভারি করা সম্ভব নয়।আপুর শরীরে রক্তের অনেক ঘাটতি আছে ।সিজারের পর রক্ত লাগবে তাই আগেই যেনো তারা একজন রক্তদাতার খোঁজ রাখে ।আপুর রক্তের গ্রুপ O+।আপুর স্বামী মোনায়েম ভাই রক্তের সন্ধান করছেন। বিভিন্ন ব্লাড ফাউন্ডেশনে খোঁজ নিচ্ছে।এমন সময়ে তার কাছে একটা ফোন অসলো ।একটা ছেলে ফোন করেছে। ছেলেটার নাম রাসেল মিয়া।ফোনে সে বলল সে ব্লাড দিবে তার ব্লাড গ্রুপ O+।মোনায়েম ভাই ছেলেটাকে ঠিকানা দিল এবং বলল আগামীকাল তার স্ত্রীর সিজার সে যেনো সময়মত চলে আসে । রাসেল ভাই ও প্রতিশ্রুতি দিল সে যাবে। এমনি করে দিনটি কেটে গেল । পরদিন সকালে শারমিন আপুকে হসপিটালে ভর্তি করা হলো। রাসেল ভাইকে ও খবর দেওয়া হলো সে যথাসময়ে সেখানে পৌঁছে গেল ।ব্লাড ও দিল ।ব্লাড দেওয়ার আগে অবধি রাসেল ভাই এর কদরই ছিলো অন্যরকম ।ব্লাড দেওয়ার পরক্ষণেই যেন সে কদর শেষ হয়ে গেল ।শারমিন আপুর স্বামী ও তাদের বাড়ির লোক সবাই বাচ্চা ও বাচ্চার মা কে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল ।রাসেল ভাই এর কথা একরকম ভাবে ভুলেই গেল ।রাসেল ভাই কিছুক্ষণ রেষ্ট নিয়ে যখন হসপিটাল থেকে বের হবে তখন শারমিন আপুর বাড়ির লোক এর নজরে আসলে রাসেল ভাই ।সবাই একটা শুকনো ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় দিল রাসেল ভাই কে ।এতে রাসেল ভাই একটু কষ্ট পেল ।একজন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা আসলে কি চায় ! টাকা !নাহ্ একটু সম্মান একটু ভালো ব্যবহার আর যত্ন । কিন্তু আমরা কি দেই তাদের অবহেলা আর অবহেলা দেই ।নিজেদের প্রয়োজন মিটলে এই মহান ব্যক্তিটা কে আমরা ভুলেই যাই ।একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে যে লোকটা ছুটে এসেছে তার খোঁজ নেওয়া তো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ।কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় এই নৈতিক দায়িত্ব টা পালন করা হয় না ।আসলে আমাদের এই নৈতিক দায়িত্ব টা ভুলে যাওয়া উচিত না ।রক্তদাতাদের এভাবে অবহেলা করা উচিত এতে তাদের মনোবল ভেঙ্গে যায়।পরবর্তীতে তারা রক্তদানে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে ।রাসেল ভাই এর মত এরকম হাজারো রক্তদাতা আছে যারা বিনা অর্থে স্বেচ্ছায় রক্তদান করে ও অবহেলিত ।রক্তদানের মত মহৎ কর্মে যারা এগিয়ে আসে তাদের স্যালুট করা উচিত । একজন রক্তদাতা একটা প্রাণ বাঁচায় ।রক্তদানের পর রক্তদাতার খোঁজ রাখা উচিত সে সুস্থ আছে কি না তার শরীরের কি অবস্থা এসব বিষয়ে খোঁজ নেওয়া উচিত ।রক্তদান সর্বমানবিক এক মহান সেবাকর্ম। এক ব্যাগ রক্ত জীবন বাঁচাতে পারে একজন মুমূর্ষু রোগীর ।তাই নিরাপদ রক্তদানে এগিয়ে আসতে হবে ।সামিল হতে হবে ,”রক্ত দিন, জীবন বাঁচান “আন্দোলনে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো