English|Bangla আজ ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭:৪৪
শিরোনাম
গৌরীপুরে আব্দুল রউফের উপর সন্ত্রাসী হামলা৯৯৯ কলে পুলিশের সহযোগীতায় জীবন বাঁচলো সোমার।খানসামার পুরোনো ঐতিহ্যের জয়সঙ্কর জমিদার বাড়িটি এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তেসুন্দরগঞ্জে শিশুকে অপহরণের পর হত্যা মামলার ১০ আসামী খালাসগাইবান্ধা সদর বোয়ালী ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হয়ে বৈঠা ধরতে চান যুবলীগ নেতা তুহিনচাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুলছাত্রীর উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দুই চাচাকে মারধররাণীনগরে ১১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ বিতরণঘাটাইলে সাংবাদিকদের সাথে ওসি’র মতবিনিময়‌ওয়ার্ড আ. লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী নূর ইসলামঘুমধুম আজুখাইয়ার সাদ্দাম পৌণে ৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ আটক,পলাতক রফিফ ও সাইফুল

অতিথি পাখির আগমন শুরু, নিরাপত্তার নেই লক্ষনীয় উদ্যোগ

আহাম্মদ কবির, তাহিরপুর প্রতিনিধিঃ

শীতের শুরুতেই সুদূর সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া এবং তিব্বতের হিমশীতল সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে পরিব্রাজক পাখিরা বংশপরম্পরায় পাড়ি জমাচ্ছে পাখির অভয়ারণ্য হিসাবে খ্যাত দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইড টাংগুয়ার হাওরে।

হাজার হাজার মাইল অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসা এসব পাখিদের অতিথি পরায়ণ বাঙালি অতি আদর করে নাম রেখেছে অতিথি পাখি।কিন্তু এসব অতিথি পাখিদের আগমন শুরু হলেও নিরাপত্তার নেই লক্ষনীয় উদ্যোগ।

জানাযায় সুনামগঞ্জের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের টাংগুয়ার হাওড়, ছাড়াও তাহিরপুর উপজেলার ছোট-বড় বেশ কয়েকটি হাওরে। এইসব অতিথি পাখির কোলাহলে মুখরিত থাকবে পাঁচ থেকে ছয় মাস। স্থানভেদে নভেম্বর থেকে পাখির পরিযান শুরু হয়। ডিসেম্বর আর জানুয়ারি থেকে অতিথি পাখির পরিযানের হার সবচেয়ে বেশি থাকে। মার্চ আর এপ্রিল রেশমি শীতের ছোঁয়া গায়ে লাগিয়ে আবারো ডানায় ভর দিয়ে হাজার হাজার মাইল অতিক্রম করে পাড়ি দিবে নিজ গন্তব্যে।

কিন্তু বিগত দিনের তুলনায় টাংগুয়ার হাওরে বর্তমানে আশঙ্কাজনক হারে অতিথি পাখি আসার হার কমে গেছে।
বিভিন্ন তথ্যসুত্রে জানাযায় ১৯৯৯ খ্রীস্টাব্দে টাংগুয়ার হাওরে শীত মৌসুমে ২১৯প্রজাতির পাখি পাওয়া যেতো তার মধ্যে ৯৮ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি এবং ১২১ প্রজাতির দেশীয় পাখি বিচরণ করতো। এছাড়াও ২২ প্রজাতির পরিযায়ী হাঁস পাওয়া যেতো।

স্থানীয়দের তথ্যমতে জানাযায় শীতের শুরুতেই প্রচন্ড শীতের প্রকোপ থেকে আত্নরক্ষার জন্য হাজার হাজার মাইল অতিক্রম করে,নিরাপদের জন্য টাংগুয়ার হাওরে আসা অতিথি পাখিদের আগমনের শুরুতেই, পূর্বের ন্যায় কিছু অর্থলোভী মানুষের অর্থের লালসা মেটাতে রাতের অন্ধকারে লাইটের আলো জ্বালিয়ে কুচ দিয়ে পাখি শিকারের কার্যক্রম শুরু করেছে এছাড়াও বর্তমানে হাওরের বিভিন্ন পাখি ও মাছের অভয়াশ্রমে রাতের অন্ধকারে লাইটের আলো জ্বালিয়ে অবৈধ মৎস্য আহরণ কারীরা মৎস্য আহরণ করায়, লাইটের আলোয় পাখিদের মারাত্মক ভাবে ডিস্টার্ব হচ্ছে।

জানাযায় শীতের অতিথি পাখি আগমন বার্তায় সুনামগঞ্জ টাংগুয়ার হাওরের সহ হাওরের আশপাশের ইজারাকৃত বিল গুলোতে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরেও কছু কিছু অর্থলোভী অসাধু শিকারি চক্র , পাখি শিকারে নেমেছে।

বিভিন্ন সুত্রে জানাযায় গত সোমবার (১৬,ডিসেম্বর) তাহিরপুর সীমান্ত এলাকায় অতিথি পাখি শিকার করে পাচারের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৮টি অতিথি পাখি আটক করে জনসম্মুখে অবমুক্ত করে বিজিবি।

কিন্তু বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা)আইন ২০১২ অনুযায়ী পরিযায়ী(অতিথি পাখি) হত্যার দায়ে একজন অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে।

একইভাবে কোন ব্যাক্তি যদি পরিযায়ী পাখির মাংস দেহের অংশ সংগ্রহ করেন ও দখলে রাখেন কিংবা ক্রয় বিক্রয় করেন বা পরিবহন করেন সে ক্ষেত্রে তার সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ত্রিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দন্ডিত হওয়ার আইন প্রচলিত রয়েছে।অতিথি পাখি নিধন এবং বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ জেনেও আইনের ফাঁক গলে এক শ্রেণির পেশাদার দুষ্কৃতকারী পাখি শিকারীরা এই জঘন্য কাজ গুলো নির্বিঘ্নে করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

টাংগুয়ার হাওর পাড়ের সচেতন মহল জানান অতিথি পাখিদের আগমনের শুরুতেই পাখিদের নিরাপত্তার জন্য জনবল বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে,নজরদারি জোরদার না বাড়ালে পুর্বের ন্যায় পাখিরা মুখ ফিরিয়ে অন্যত্রে চলে যাওয়ার আশঙ্কাই খুববেশী, তাই প্রশাসনের কাজে পাখিদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানায় তারা ।

টাংগুয়ার হাওর ইক্যু ট্যুরিস্ট গাইড অকিল তালুকদার বলেন,টাংগুয়ার হাওর পরিবেশ বান্ধব পর্যটন এলাকায় পরিবেশ রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা সময়ের প্রয়োজন। হাওরে পাখি আসতে শুরু করেছে পাখিদের নিরাপত্তার জন্য হাওরে নজরদারি বাড়াতে হবে, জনবল সহ প্রয়োজনীয় সাপোর্ট থাকতে হবে।

টাংগুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ কবির বলেন এখনই সময় অতিথি পাখিদের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার, শুরুতেই পাখি নিধন বন্ধে ও নজরদারি না বাড়ালে

শিকারীদের অত্যাচারে পাখি মুখ ফিরিয়ে অন্যত্রে চলে যাবে।উনি বলেন গত ২৬,নভেম্বর সুনামগঞ্জের হাওর বান্ধব জেলা প্রশাসক হাওর পাড়ে এসে, হাওরের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সাথে তাদের মতামতের ভিত্তিতে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন প্রত্যেকটি উদ্যোগ অতিদ্রুত বাস্তবায়ন হলে আশাকরি হাওরটি অনেকটাই নিরাপত্তায় চলে আসবে।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পিযুস পুরকায়স্থ টিটু বলেন,পাখি ধরা মারা খাওয়া সরকারী ভাবে নিষিদ্ধ, তবুও কিছু অর্থলোভী অসাধু শিকারি চক্র এইসব নিরীহ পাখিদের খাওয়ার জন্য অথবা বিক্রির জন্য উৎ পেতে থাকে। তবে সরকারী ভাবে যদি পাখি শিকারীদের কঠোর হস্তে দমন করা যায় তাহলে পাকি খাওয়া ও বিক্রি করা অনেকটাই কমে যাবে।

এ ব্যাপারে টাংগুয়ার দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট এর সরকারি মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন করলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো