English|Bangla আজ ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার দুপুর ২:১৪
শিরোনাম

মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি

মু. এনামুল হক মিঠু :

কালো মেঘের আনাগোনায় আড়ালে পড়ে যায় ভোরের লাল টুকটুকে সূর্য। বীভৎসময় মেঘ চেষ্টায় থাকে তাকে আড়ালে রাখতে, তাকে দূরে রাখতে, তাকে দমিয়ে দিতে, তার দখলে রাখতে চায়। শুধু তাই নয়, গোটা প্রান্তর অন্ধকারাচ্ছন্ন করতে চায় কালোমেঘেরা, তছনছ করতে চায় আলোকনগরীকে, গোটা দেশ নরকপুরী বানাতে চায়, ধ্বংস করতে চায় এ দেশ।

শোষণ করতে চায় অনধিকারে সূর্যের এরিয়াতে। শোকাবহ কালি মেখে দিতে চায় এই কালো মেঘ। কুৎসিত তার রঙ, ভয়ঙ্কর তার চাওয়া। কিন্তু সব চাইলেই কি পাওয়া যায়?
যে আলোয় আমরা পথ চলি, যে আলো জমির ফসল সতেজ করে ফোটায় কৃষকের মুখে হাসি।

যে আলো তারুণ্যে বাতিঘর, যে আলো আমাদের স্বপ্ন দেখায় দিগন্তপথে ছুটে চলতে আর সামনের দিকে এগিয়ে চলতে। যে আলো আমাদের কথা বলার শক্তি জোগান দেয়, প্রতিবাদী স্লোগান দিতে সাহায্য করে। সেই আলো নিঃশেষ করা এতটা সহজ ? তা ভাবার সাহস হয় কীভাবে?

একদিন ভোরের কালো মেঘ কেটে যায়। সূর্যের তাপে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় সেই দানবরূপী কালো মেঘ। নতুনরূপে সূর্য ওঠে। জেগে উঠে আশার আলো । সুন্দর পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে ছিনিয়ে আনে হাতে লাল-সবুজের পতাকা সাথে যুক্ত হয় নতুন মানচিত্র। সেই আলো আমার লাল-সবুজের দেশ, আমাদের বাংলাদেশ। যেখানে বসে আমি লিখি, আমি স্বাধীনভাবে কথা বলি। আমি রাত্রে আরামে ঘুমাতে পারি।

আমি বিদ্যালয়ে নির্ভয়ে যেতে পারি। আমি জয়ে উল্লাস করি, আনন্দে নেচে উঠতে পারি। আমি রকস্টারের মতো গলা ছেড়ে গান গাইতে পারি। সেই দিনটি ১৬ ডিসেম্বর। বাঙালি জাতির এক গৌরবময় দিন। এক ইতিহাস রচনা শেষ করার দিন। এক আনন্দের দিন, এক উজ্জ্বল নক্ষত্র জাগরণের দিন। একটি লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর দিন। একটি আলোকবর্তিকার জন্মের দিন।

এই দিনটিতে আকাশে নতুন সূর্য উদিত হয়। নতুন আলোয় আলো দেখার সুযোগ হয়। ত্রিশ লাখ শহীদের প্রাণদান, দুই লক্ষাধিক নারীর সভ্রমহানি, নির্যাতন ও বঞ্চনার বিনিময়ে দীর্ঘ নয় মাস এক সাগর তাজা রক্তের বদলে অর্জিত হয়েছে এই দিনটি। দেশের বুকে মাথা উঁচু করে পথচলা শুরু করে এই দিনটি। জাতিগত বিভেদ ভুলে সবাই এক হয়ে ছিনিয়ে এনেছে হায়নাদের কাছ থেকে এই বিজয়ময়ী দিন।

বিজয় মানেই স্নিগ্ধময় হাসি, সব ঘোর অমানিশার নির্গমন। নতুন করে জেগে ওঠা। নতুন আলোয় নিজেদের আলোকিত করা। বিজয় মানে গাঙচিল হয়ে খোলা আকাশে উড়ে বেড়ানো। বিজয় মানে হরিণ শাবক হয়ে স্বাধীনভাবে বনে ঘুরে বেড়ানো। যেখানে থাকবে না কোনো হায়না, বাঘ বা সিংহের মতো কোনো জন্তু-জানোয়ার। বিজয় মানে ইটের নিচে চাপা পড়ার মাঝেও জেগে ওঠা সতেজ নতুন ঘাস।

বিজয় মানে লাল-সবুজের পতাকা হাতে কোনো কিশোরের সূর্যমুখী ফুলের মতো একরাশ হাসি। বিজয় মানে কোনো কিশোরীর অবাধ ছুটে চলা, বিজয় মানে রোদে পুড়ে চাষ করে, কৃষকের ঘরে ফসল তোলার সেই ফোকলা দাঁতের হাসি। বিজয় মানে নজরুলের সেই বিদ্রোহী কবিতার মুখে মুখে শ্নোক রাশি, বিজয় মানে রবীন্দ্রনাথের কবিতার ভাববিলাসী। বিজয় মানে জীবনানন্দের কবিতার সুরঞ্জনার মতো প্রেয়সীর হাতে হাত রেখে ঘর বাঁধা, বিজয় মানে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে আঙুল তুলে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে জয় বাংলা স্লোগান।

বিজয় মানে নিজেকে বলিদানে লাল সূর্যকে ছিনিয়ে আনা, বিজয় মানে জীবনযুদ্ধে হেরে না যাওয়া যুবকের প্রেয়সী হারানো ভুলে যাওয়া। বিজয় মানে কোনো মায়ের কোলে শিশুর নিষ্পাপ হাসি, বিজয় মানে বাবার কাঁধে ঘুরে বেড়ানো সন্তানের ইচ্ছার ইতি। বিজয় মানে প্লাকার্ড হাতে জয়ের মিছিল। বিজয় মানে স্বাধীনভাবে আকাশে উড়ে বেড়ানো এক ঝাঁক সাদা বক।

বিজয় মানে নিজেদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এক সোনালি ফসল। সর্বোপরি– বিজয় মানে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো