English|Bangla আজ ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার রাত ৯:৪৪
শিরোনাম
গাজীপুরে যুবলীগের উদ্যোগে,৫শত অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল ও মাস্ক বিতরণ করেরংপুরে অসহায়দের মাঝে কম্বল বিতরণ অব্যাহত আ.লীগ নেতা মওলারনান্দাইলে ক্যারাভান রোড শো উদ্বোধনকলারোয়া থানা পুলিশের অভিযানে ৩৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটকপলাশবাড়ীতে বাঁধন ফাউন্ডেশন আয়োজিত চাইনিজ ফুটবল টূর্ণামেন্টের উদ্বোধনমামলা চলমান অবস্হায় জেনারেল হাসপাতালের নামে জমি দখলের পায়তারাভোলায় প্রতারক ও ভূমিদস্যু আবুল কালামের বিচারের দাবিকোভিড-১৯ মোকাবেলার লক্ষ্যে পাথরঘাটায় সিসিডিবি’র খাদ্য সামগ্রী, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কৃষি উপকরন বিতরণ।কোভিড-১৯ মোকাবেলার লক্ষ্যে পাথরঘাটায় সিসিডিবি’র খাদ্য সামগ্রী, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কৃষি উপকরন বিতরণ।বাংলাদেশের কনিষ্ঠ মেয়র মনির , বয়স ৩৬

পাহাড়তলীর উন্নয়নে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি

আব্দুল করিম চট্রগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ড পাহাড়তলী। ৫.৩৬ বর্গকিলোমিটারের এ ওয়ার্ডে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস। আয়তনের তুলনায় বসবাসকারী জনসংখ্যার পরিমাণ দেখলেই বোঝা যায় এখানে ঘনবসতি রয়েছে। বহিরাগতের আগমনের কারণেই এখানে জনসংখ্যা একটু বেশি। আর এসব বহিরাগতের বসবাসের ব্যবস্থা করে দিতে একটি চক্র পাহাড় কেটে গড়ে তুলেছে বস্তি।

শুধু কি তাই, বহিরাগতদের থাকার সুযোগ করে দিয়ে তাদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করছে একটি মহল। এছাড়াও এ এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে ও বিপক্ষ দলকে ঘায়েল করতে কিশোর গ্যাংয়ের সৃষ্টি করেছেন নেতারা। রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব কিশোর গ্যাং হয়ে উঠেছে বেপরোয়া। নেতাদের স্বার্থ হাসিলের বলি হচ্ছে তারা। কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক যুবকের ওপর কিশোর গ্যাং-এর হামলার ভিডিও ভাইরাল হয়।

খোদ আকবরশাহ থানার পাশেই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কিশোর গ্যাং-এর এ হামলার ঘটনাই বলে দেয় যে, এ ওয়ার্ড এখন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়ে উঠেছে। বেপরোয়া এ কিশোর গ্যাং এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এ তো গেল ভূমিদস্যু আর সন্ত্রাসী কর্মকা-ের গল্প। এখানকার সাধারণ মানুষ এই সমস্যার পাশাপাশি বঞ্চিত হচ্ছে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকেও।

এ ওয়ার্ডের ফয়স লেক, বেলতলী ঘোনা, শাপলা, জয়ন্তিকাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনো পৌঁছায়নি নাগরিক সুবিধা। জলাবদ্ধতা ও ভাঙ্গা রাস্তাঘাটতো রয়েছেই। অনুন্নত রয়েছে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থাও। রয়েছে খেলার মাঠের পাশাপাশি সুপেয় পানির সংকটও ।সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও সমস্যার খবর তুলে আনতে গেলে এ সব সমস্যার কথা জানান স্থানীয়রা।

আর এর সমাধান দিতে চান সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মো. জহুরুল আলম জসিম। তিনি বলেন, ‘এলাকার সুপেয় পানির অভাব মেটানোর জন্যে ওয়াসা ও জাইকার সাথে আমি বেশ কয়েকবার সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছি। বিষয়টি নিয়ে আমি কাজ করছি, আশা করছি খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে সমাধান করা সম্ভব হবে।

পাহাড়কাটা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে এ ওয়ার্ডে কোথাও পাহাড় কাটা হয় না। আর এ ধরণের কিছু হলে আমি প্রশাসনের সাথে মিলে এর সমাধানে কাজ করবো। আর পাহাড়কাটার যে অভিযোগ সেখানে সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে আবাসিক বানানো হয়েছে।

এরপরেও পাহাড়কাটার ঘটনা ঘটলে আমি এর বিপক্ষে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।গত পাঁচ বছরে এই ওয়ার্ডের জন্য কি কি করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত ৫ বছরে আমি ১২০ কোটি টাকার কাজ করেছি, আরো ২২ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। আর এই ওয়ার্ডে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫০টি রাস্তার কাজ আমি করেছি।

কাউন্সিলর থাকা অবস্থায় আমি নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্যে বেগম ফজিলাতুন্নেসা প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করেছি। এর আগেও আমি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি উচ্চ বিদ্যালয় নির্মাণ করেছি। এছাড়াও পূর্ব ফিরোজশাহ কলোনিতে নিজ উদ্যোগে আমি বঙ্গবন্ধু চত্বর নির্মাণ করেছি। আর বিগত বছরগুলোতে আমি প্রচুর নালা-নর্দমা নির্মাণ করেছি এবং ফিরোজশাহ এলাকায় একটি ঈদগাহ নির্মাণ করেছি।

আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছি। দল থেকে মনোনয়ন চাইবো। নির্বাচনে জয়লাভ করলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাদক নির্মূলসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাবো।

আগামী সিটি নির্বাচনে বর্তমান কাউন্সিলর মো. জহুরুল আলম জসিমের মত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক এরশাদ মামুন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দ সারোয়ার মোর্শেদ কচি।অন্যদিকে বিএনপির হয়ে লড়তে চাইছেন আকবরশাহ থানা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার সেলিম।

আকবরশাহ থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার সেলিম এ ওয়ার্ডের ২০১০ সালের নির্বাচিত কাউন্সিলর। এছাড়াও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন ২০০৫ সাল এবং ২০১৫ সালে। নির্বাচিত হলে এলাকা থেকে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান, শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও এলাকার রাস্তা সংস্কারের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডের ফয়স লেক, বেলতলী ঘোনা, শাপলা, জয়ন্তিকাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় নাগরিক সুবিধা পৌঁছায়নি। আমি নির্বাচিত হলে এসব এলাকার অবহেলিতদের জন্য কাজ করবো।

এছাড়াও এলাকায় শিক্ষার্থীদের জন্যে নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করবো।ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক এরশাদ মামুন বলেন, ‘গত সিটি নির্বাচনেও এই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। তবে দল থেকে মনোনয়ন পেলেই এবার নির্বাচন করবো। নির্বাচনে জয়লাভ করলে জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ সমস্যার সমাধান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা- করবেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন সময়ে নিজ উদ্যোগে এলাকার নালা-নর্দমা পরিষ্কার করেছি। এছাড়াও আমাদের এলাকায় সুপেয় পানির অভাব রয়েছে। এর জন্যেও আমি এলাকাবাসীকে ৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন করে দিয়েছি। নির্বাচনে জয়যুক্ত হলে আমি জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ সমস্যার সমাধান করব। আমার ইচ্ছা আছে এলাকায় মহিলা কলেজ ও খেলার মাঠ নির্মাণ করার এবং এলাকার সুবিধাবঞ্চিতদের জন্যে কাজ করার। এছাড়াও মাদক ও চাঁদাবাজি নির্মূলেও আমি কাজ করবো।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আরেক নেতা সৈয়দ সারোয়ার মোর্শেদ কচি জানান- এলাকার পাহাড়কাটা বন্ধ করা, ভূমিদস্যুদের দমন, জঙ্গি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়াসহ অবহেলিতদের জন্য কাজ করার কথা। তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় পাহাড়কাটা একটি বড় সমস্যা। এছাড়াও ভূমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় সময়। একই সাথে এলাকায় মাদকাসক্ত ও সন্ত্রাস বেড়ে গেছে। আমি নির্বাচিত হলে এই সকল সমস্যা সমাধানে কাজ করবো।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বেসরকারী কারা পরিদর্শক মো. নুরুল আলম মিঞা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে চান। দল থেকে মনোনয়ন পেলে তিনি প্রথমবারের মত নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। নির্বাচিত হলে নাগরিকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে এলাকা থেকে জলাবদ্ধতা নিরসন, সন্ত্রাস নির্মূল, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি বন্ধ করার সর্বাতœক চেষ্টা করবেন বলে জানান।

এছাড়াও ওয়ার্ডের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনাসহ নিজ উদ্যোগে ওয়ার্ডের সৌন্দর্য্য বর্ধণের কাজ করার আশা ব্যক্ত করেছেন।ভোটারদের চাওয়া-পাওয়া মোহাম্মদ নুরুজ্জামান ভোটার হিসেবে নিজের প্রত্যাশা জানিয়েছেন । কাউন্সিলরদের কাছে তিনি চান এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় বেশকিছু সমস্যা রয়েছে যার মধ্যে জলাবদ্ধতা সমস্যা অন্যতম। বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ও বাসা-বাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়া নালা-নর্দমা তেমন একটা পরিষ্কার করা হয় না। যার ফলে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ায়। নতুন কাউন্সিলর যেই হোক না কেন তার কাছে আমার দাবি থাকবে, তিনি যেন আমাদের এই ওয়ার্ডকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে একটি পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড আমাদের উপহার দেন।

ভোটার হিসেবে স্থানীয় এক বাসিন্দা কাছে তুলে ধরেছেন তার ওয়ার্ডের সমস্যাগুলো। তিনি বলেন, আমাদের এলাকার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। এছাড়া জলাবদ্ধতা সমস্যা আমাদের অত্র ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা। বর্ষার সময় আমাদের এলাকার রাস্তায় পানি উঠে যায়, নিচু বাসাগুলোতে হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। আর খেলার মাঠ না থাকাতে এলাকার যুবকেরা খেলাধুলা করতে পারছে না, ফলে তারা মাদকের নেশায় আসক্ত হচ্ছেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো