English|Bangla আজ ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার রাত ৪:৫৫
শিরোনাম
সচেতনতা বার্তা নিয়ে পায়ে হেঁটে ৭০ কিঃমিঃ পথ পাড়ি দিল নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী রিয়াদ!ফরদাবাদ ইউপি নির্বাচন: আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইয়াকুব মাস্টারকুড়িগ্রামে কেমিস্টস্ সমাবেশ ও পরিচিতি সভাআত্রাইয়ে ফসলি জমিতে পুকুর খনন, খনন বন্ধে অভিযোগ: প্রশাসন নিরবগোবিন্দগঞ্জে অটোভ্যান চালক হামিদুল হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফতার-৩পলাশবাড়ীতে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিতগংগাচড়ায় পিপিআর রোগ নির্মূলে বিনামুল্যে টিকা প্রদানের উদ্ধোধনআলোচিত সেই শিশু রফিকুলের দায়িত্ব নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান হাসানঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়ায় দুই রাস্তার বেহাল দশাকুলিয়ারচরে প্রবীন আ. লীগ নেতা রমিজ উদ্দিন ভূইয়া আর নেই

পলাশবাড়ীতে লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বিহীন ইটভাটার ছড়াছড়ি

আল কাদরি কিবরিয়া সবুজ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বিহীন ইটভাটার ছড়াছড়ি। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে আবাদি কৃষিজমি। ইটভাটা মালিকেরা পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা যত্রতত্র গড়ে তুলছে। অবৈধভাবে গড়ে উঠা এসব ইটভাটা গুলোতে কয়লার পরিবর্তে পুড়ছে কাঠ খড়ি।

আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে এবং সরকারের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বিভিন্ন ইটভাটায় অবাধে পোঁড়ানো হচ্ছে এই কাঠ খড়ি। ইটের চিমনি ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। ফলে কালো ধোঁয়ায় বিপন্ন হয়ে পড়ছে এলাকার পরিবেশ। পলাশবাড়ী উপজেলা জুড়ে ৮টি ইউনিয়নে আবাদি কৃষি জমি নষ্ট করে বসতবাড়ীর আশে-পাশে গড়ে উঠছে ইটভাটা।

জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন ইটভাটা স্থাপনের লাইসেন্স দিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত অনাবাদি জমি, নিচু জলাশয়ের ধারে, নদীর পাশে এবং কমপক্ষে চারদিকে ১ কিলোমিটার জনশূন্য এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার কথা। কিন্তু পলাশবাড়ী উপজেলার কোনো ইটভাটা মালিকই এসব শর্ত মানছে না।

আর মানার চেষ্টাটুকুও তাদের নেই। শুধুমাত্র নাম মাত্র কর ও প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চলছে এসব ইটভাটা। এমনকি প্রশাসনের নাকের ডগায় উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের (এমএসবি) নামে ইটভাটা সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে তৈরি করেছে ইটভাটার রাস্তা।

সূত্রে জানা গেছে, পলাশবাড়ী উপজেলায় বর্তমানে ইটভাটার সংখ্যা ৪৪টি। এরমধ্যে লাইসেন্স প্রাপ্ত ৪টি। উপজেলার এসব লাইসেন্স বিহীন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বিহীন ইটভাটার কারণে ইট পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাক্টর (কাঁকড়া), ট্রলিসহ ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করায় গ্রামীণ আধাপাকা রাস্তা গুলো সর্বসাধারণের চলাচলে ব্যাপক জনদূর্ভোগ পোঁহাতে হচ্ছে।

এমনকি শুধুমাত্র পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করেই বছরের পর চলছে এসব ইটভাটা। মান্দাত্তা আমলের আদলে আজো বন্দি এসব ইটভাটা এলাকার মানুষ, আবাদি জমি, বসতবাড়ী তথা জমি ও অন্যান্য জীব যা আছে এছাড়াও গোটা উপজেলার পরিবেশ।

এদিকে আয়কর বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, গত বছর তিনি অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছেন এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কেউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। মাঝে মাঝে লোক দেখানো মাত্র অভিযান পরিচালনা করে সাময়িক বন্ধ রাখা হলে কিছু দিন পরে আবারো এসব ইটভাটা কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। অপরদিকে নতুন করে গড়ে উঠা ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা ও পানি ঢেলে নিভে দিলেও মেয়াদ উত্তীর্ণ ইটভাটা গুলো বন্ধে এ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

পলাশবাড়ী উপজেলার ইটভাটা মালিক সমিতির এক নেতা জানান, এ উপজেলায় প্রায় ৪০টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে তার ইটভাটাটিসহ মাত্র ৩টির। কিভাবে লাইসেন্স বিহীন ইটভাটা বছরের পর বছর এভাবে চলতে পারে তা তার জানা নেই। তবে প্রশাসন ইচ্ছা করলেই এসব ইটভাটা বন্ধ করে দিতে পারবে। তবে কি কারণে এসব ইটভাটা বছরের পর বছর চলছে তা তার জানা নেই।

অপরদিকে বৈধ ইটভাটা মালিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এ ধরনের ইটভাটার সংখ্যা বাড়ছে। আমরা সরকারের সকল নিয়ম -নীতি মেনে অর্থকরী ব্যয় করে ব্যবসা করছি আর অবৈধ ইটভাটা গড়ে তুলে ভোক্তাধিকার আইন লংঙ্ঘণ করে নামমাত্র ইট উৎপাদন করে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছে।একারণে বৈধ ভাটা মালিকগণের ব্যবসা এখন লাঠে ওঠার উপক্রম।

অন্যদিকে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা ইটভাটা গুলো শুধুমাত্র কর প্রদান করে চলছে সরকারের কোষাগারে যে পরিমান কর প্রদান করা হচ্ছে এর ১৫ গুণ ক্ষতি করছে রাষ্ট্রের। উপজেলার সকল ইটভাটায় ইটের কোন প্রকার উপদান ব্যবহার করা হচ্ছে না। শুধু মাত্র বালু, মাটি ও পানি দিয়ে তৈরী করে পোড়ানোর হচ্ছে ইট। যা জনসাধারণের নিকট বিক্রি করা হচ্ছে উচিৎ মূল্যে। লক্ষ টাকা বেশী ব্যয়ে স্থাপনা নির্মাণে রড, সিমেন্ট অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করা হলেও ইট ক্রয় করে প্রতারণার স্বীকার হচ্ছে এসব ইটভাটার গ্রাহক সর্বসাধারণ।

উপজেলা জুড়ে গড়ে উঠা এসব ইটভাটা বন্ধ করা সম্ভব না হলেও যাচাই-বাছাই পূর্বক নিবন্ধিত করার মাধ্যমে নিয়ম ও আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করা জরুরী হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে সচেতন মহল।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো