English|Bangla আজ ৩রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার রাত ৯:০৫
শিরোনাম
সাপাহারে মিশ্র বাগান করে কোটিপতি কৃষক সাখাওয়াত হাবীব!নান্দাইলে মাঠ দিবস ও রিভিউ ডিসকাশনবান্দরবানে সারাদেশে সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন ও নিপিড়ন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধনপুলিশ লাইনস্ নরসিংদীতে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিতরাণীনগরে প্রতিবন্ধির জমি লিখে নেয়ার অভিযোগ বোনের বিরুদ্ধেদিনাজপুর পৌরসভা কাউন্সিলর জনকল্যাণ সংস্থা কর্তৃক নবাগত জেলা প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদানদৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ঢাবি শিক্ষার্থীকে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানরায়পুরে ঝুকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো পারাপারে আহত-২০: ব্যবসায়ী মৃত্যুশয্যায়নরসিংদীতে গণধর্ষণের প্রধান আসামি আরিফ গ্রেফতার।সাংবাদিক মোজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে দেবীদ্বার সাংবাদ কর্মীদের কর্ম বিরতি

ধান সংগ্রহে ময়মনসিংহ সিএসডি’তে অভিনব সিন্ডিকেটবাজী

বদরুল আমীন, ময়মনসিংহঃ

ধারাবাহিক দুর্নীতি, অনিয়ম আর আত্মসাতের ফলে খাদ্য বিভাগীয় স্থাপনাগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার (সিএসডি) হয়ে উঠেছে দুর্নীতি প্রবণ। নবধারায়, নব কৌশলে প্রতি অর্থ বছরেই এখানে ঘটছে নতুন নতুন দুর্নীতি ও আত্মসাতের ঘটনা। যা প্রতিবারই অতীতের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড গড়ছে।

চলতি মৌসুমে আমন ধান-চাল সংগ্রহ/২০১৯-২০ এ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের নির্দেশনা থাকলেও ময়মনংিহ কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারে তা উপেক্ষা করে সিন্ডিকেট দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দালাল-ফঁড়িয়াদের নিকট হতে ধান কেনা হয়েছে। সিএসডি’র ব্যবস্থাপক কাজী গোলাম কিবরিয়া এই কাজে একটি শক্তিশালী সক্রিয় সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজশ করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

সুত্রমতে, ধান ক্রয়ের সরকারি বিধান মত, কার্ডধারী কৃষক, মনোনীত/লটারীতে প্রাপ্ত কৃষক, নিজের বাহন ও নিজের বস্তায় গুদাম চত্বরে ধান নিয়ে আসবেন। অতঃপর খাদ্য গুদামের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধানের গুনগত মান বিশেষ করে আর্দ্রতা ও ওজন পরীক্ষা করে সঠিক পাওয়া সাপেক্ষে সরকারি গুদামের স্টেনশীলসহ কৃষক যার যার বস্তায় ভরে গুদামে খামালজাত করবেন।

এই বিধান অনুসরন না করে, ব্যবস্থাপকের স্বার্থ হাসিলের জন্য সিন্ডিকেটের অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষে বর্ণিত বিধানগুলোর প্রায় কোনটিই না মেনে সিএসডি’তে ১৫% থেকে ১৭% আর্দ্রতা সম্পন্ন ধান ক্রয় হয়েছে।

সরকারি বিধানে ১৪% এর উপর প্যারামিটারে কোন খাদ্য শস্য ক্রয় করা যাবে না বলা হলেও ব্যবস্থাপক স্ব-উদ্যোগী হয়ে গোপনে সিন্ডিকেট চক্রের নিকট সরকারি গুদামের স্টেনসীল দেওয়া বস্তা পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সুত্র জানায়, কৃষক নামধারী ঐ সকল সিন্ডিকেট সদস্য ইতোমধ্যেই কৌশলে কৃষকদের কার্ড বাগিয়ে নিয়ে বস্তাবন্দী নি¤œমানের ধান যাচাই-বাছাই ছাড়াই গুদামজাত করার সুযোগ পেয়েছে।

দালাল-ফঁড়িয়া সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে শম্ভুগঞ্জের জনৈক ফারুকসহ মধ্যস্বত্বভোগী চক্রের পোয়াবারো অবস্থা হয়েছে বলে জনশ্রæতি রয়েছে। কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারের খাদ্য বিভাগীয় কর্মচারীদের মধ্যেও একটি সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট রয়েছে।

জানাযায়, এই সিন্ডিকেটে আছেন খাদ্য গুদামের ব্যবস্থাপক, কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক, বøক ইন্সপেক্টর, মজুদ শাখার ইনচার্জ যথাক্রমে গোলাম কিবরিয়া, ফাতেমাতুজ জোহরা, জেভিয়ার চিসিমসহ গুদাম ইনচার্জগণ। যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে ব্যপক অভিযোগ।

ময়মনসিংহ সিএসডি’তে সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক মোঃ নূর আলম সিদ্দিকী একজন গুদাম ইনচার্জের সহকারী হিসেবে কর্মরত থাকার কথা কিন্তু ব্যবস্থাপক এর ছত্রছায়ায় তিনি একজন গুদাম ইনচার্জের পদে দায়িত্ব পালন করছেন। যার দায়িত্বে ৭/৮টি গুদাম রয়েছে। যা নিয়ম বহিঃভুত।

সিএসডি’তে অফিস সহকারী, উচ্চমান সহকারী, একাউন্টটেন্ট এবং কম্পিউটার কন্ট্রোল অপারেটর পদগুলো দ্বারা ম্যানেজার কর্তৃক অফিস ব্যবস্থাপনা করার বিধান রয়েছে।
খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা প্রহরীদের দ্বারা গুদাম সমূহের নিরাপত্তা রক্ষার কাজ করানোর বিধি থাকলেও সিএসডি’তে কর্মরত নিরাপত্তা প্রহরী শিরীনা আক্তারকে নিয়ে কম্পিউটার কন্ট্রোল অপারেটিং চালানো হচ্ছে।

ম্যানেজারের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন হওয়ায় এই মহিলা নিরাপত্তা প্রহরীকে ম্যানেজারের রুমেই চেয়ার-টেবিল পাতিয়ে জাঁকজমক পূর্ণভাবে কাজকর্মে বসানো হয়েছে। খাদ্য শস্য মজুদ সংক্রান্ত অতীব গুরুত্বপূর্ণ পদটি চালানো হচ্ছে এই চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর দ্বারা।

ময়মনসিংহ সিএসডি-তে চলাচল সূচির মাধ্যমে যে কোন এল.এস.ডি/খাদ্য বিভাগীয় স্থাপনা হতে প্রাপ্ত চালের ট্রাক আটকিয়ে রেখে কৌশলে উৎকোচ আদায় করে তবেই প্রতিটি ট্রাক আনলোড করা হয় বলে সুত্র জানায়।

সুত্রমতে, জেলার ভালুকা খাদ্য গুদাম হতে ৬ ফেব্রæয়ারি চলাচল সূচির মাধ্যমে ৬০ মে.ট. নি¤œমানের চাল ময়মনসিংহ সিএসডি-তে প্রেরণ করা হয়, ময়মনসিংহ সিএসডি চলাচল ও মজুদ শাখার ইনচার্জ উক্ত ৬০ মে.ট. চালের ৩টি ট্রাক ৪০নং গুদামে পোস্টিং দেন। উক্ত চাল নি¤œমানের অযুহাতে ৩ দিন গুদাম চত্বরে ট্রাক ৩ টি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল।

পরে ৪০নং গুদামের ইনচার্জ ও ম্যানেজার মিলে টন প্রতি ২৫০০-৩০০০ টাকা করে উৎকোচ আদায়ের মাধ্যমে উক্ত চাল গুদামে নেয়া হয়। এরকম ঘটনা অহরহ ঘটছে। যেমন, গত ২৯ ফেব্রæয়ারি সিএসডি-তে প্রবেশকারী চলাচল সূচির চালের ট্রাক (ঢাকা মেট্রো- ট ১৬-৭১১১) তে ২০ মে.ট. চাল ২ মার্চ সোমবার ১২টা পর্যন্ত ট্রাকটি আনলোড করা হয়নি।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো