English|Bangla আজ ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার বিকাল ৪:০৩
শিরোনাম
সাপাহারে খোট্টা পাড়া সরিষাভাঙ্গা মেশিনের ফিতার সাথে জড়িয়ে যুবকের মৃত্যু।বান্দরবানে ১৫০ শিক্ষার্থীকে দেয়া হলো বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সহায়ক বইবান্দরবানে ত্রিমুখী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৬মুরাদনগরে মনিরুল আলম দিপুর উদ‍্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণবিদ্যুতপৃষ্টে চাচা ভাতিজার মৃত্যুতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন।ইউএনও একরামুল ছিদ্দিকমুজিববর্ষে পত্নীতলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার বাড়ি পাচ্ছেন ১১৪ টি ভূমিহীন পরিবারশ্রীমঙ্গলে আগামী কাল গৃহহীনদের জন্য নবনির্মিত ৩শত ঘর উদ্বোধন করা হবে আগামীকালপিএইচডি কর্তৃক চরফ্যাশনে মা ও কিশোর-কিশোরী সমাবেশ অনুষ্ঠিতচিলমারীতে জ্বালানী তেল সরবরাহ এবং ডিপো স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধনচিলমারীতে পাট গুদামে আগুন, লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি

ঢাবিতে চান্স পেয়েও শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তায় মোহনগঞ্জের মেধাবী ছাত্রী শারমিনের

মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি :

মেধাবী শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও ভর্তি পর তার শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই শারমিনের দিন কাটছে চরম দুশ্চিন্তায়। সে জানে না, কিভাবে তার লেখাপড়ার খরচ যোগাবে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম দরিদ্র বাবার পক্ষে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করাই কষ্টকর। তিনি কিভাবে শারমিনের লেখাপড়ার খরচ যোগাবেন?

শারমিন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার রতিয়ারকোনা গ্রামের দরিদ্র কৃষক মো. মিজানুল হকের মেয়ে। তিনি ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মেধাতালিকায় ১০৪তম স্থান দখল করেছেন।

শারমিনের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করলেও আর্থিক অনটনের কারণে এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করার সাহস পায়নি তার পরিবার। ২০১৯ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন শারমিন।

মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তরুণ কুমার সরকার বলেন, আমাদের কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও ভর্তি পর তার শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে আমার কাছে খবর আসে। পরে আমি আমার কলিগদের নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করে শারমিনের পড়ালেখার খরচ প্রাথমিকভাবে চালানোর জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করছি। তা শিগগিরই শারমিনের হাতে তুলে দেব।

শারমিনের বাবা মো. মিজানুল হক নাজমুল বলেন, আল্লাহ আমার মতো গরিবের ঘরে এমন এক রত্ন দিয়েছেন যার ভরণপোষণ করার মতো সামর্থও আমার নাই। শারমিনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেছি, কিন্তু তার লেখাপড়ার খরচ নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় আছি।

এ বিষয়ে শারমিন জানান, বন্ধুদের অনেকেই যখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ের জন্য ময়মনসিংহ-ঢাকার বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে ভর্তি হলেও অর্থাভাবে ভর্তিকোচিং করতে পারেননি শারমিন। বিষয়টি তার মনে প্রভাব ফেললেও তিনি দমে যাননি। বরং তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নিজের ঘরে বসে একা একাই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ইউনিটে ১০৪তম স্থান দখল করেন।

শারমিন আরো জানান, সমাজের উদার, স্বচ্ছল এবং বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতা পেলে লেখাপড়া শেষ করে প্রশাসন ক্যাডারের একজন সৎ কর্মকর্তা হয়ে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।

শারমিনের বাবা মো. মিজানুল হক নাজমুল তার মেয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে যৌথ সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর: ৩৫১২১০১০০০১১৬, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, মোহনগঞ্জ শাখা, মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা এবং বিকাশ নম্বর: ০১৭০৭০৫৫০৪৮-এর মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য সমাজের হৃদয়বান মানুষদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো