English|Bangla আজ ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার সকাল ৯:১৮
শিরোনাম
কুড়িগ্রামে সেকেন্দার বীজ হিমাগারে নতুন আলু সংরক্ষনে দোয়া ও মিলাদগাইবান্ধায় জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালিতখানসামায় সরক দুর্ঘটনায় মটর সাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু।ঠাকুরগাঁও নাগরিক কমিটির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিতকুড়িগ্রামে রাস্তা সংস্কার কাজের উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব পনিরউলিপুরে ট্রাক চাপায় শিশুর মৃত্যুবঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে লাউডোব ইউনিয়ন আ’লীগের আলোচনা সভা:নবীনগরে মুজাক্কির হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন নবীনগর থানা প্রেসক্লাব।নওগাঁয় সকালে তালিকা থেকে বাদ ॥ দুপুরে মৃত্যু ॥ বিকেলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ॥ এলাকায় আলোচনার ঝড়পলাশবাড়ীতে প্রমীলা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

চলনবিলের মৎস্যসম্পদ এবং কৃষিসম্পদে রয়েছে অপার সমৃদ্ধির সম্ভাবনা

রাজিবুল করিম রোমিও, ভাংগুড়া (পাবনা), প্রতিনিধি,

শত বছরের বিবর্তনে উত্তর জনপদের মৎস্যভাণ্ডার খ্যাত চলনবিল মরা খালে পরিণত হতে যাচ্ছে। হারিয়ে ফেলেছে তার চিরচেনা রূপ, যৌবন আর ঐতিহ্য। শুষ্ক মৌসুমের আগেই বিল নদী খাড়ি শুকিয়ে জেগে উঠেছে দিগন্ত বিস্তীর্ণ মাঠ। সেই মাঠে এখন রসুন, পেঁয়াজ, সরিষা, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, লাউ, সিমসহ নানা প্রকার শাকসবজি আবাদ হচ্ছে। এ অঞ্চলে উৎপাদিত শাকসবজি, মধু, কাঁকড়া, শুঁটকি ও কুচিয়া মাছ চাষ হচ্ছে যা থাইংল্যান্ড, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশে রফতানি হচ্ছে। চলনবিলে উৎপাদিত কৃষি পণ্য ও মৎস্যসম্পদ এই অঞ্চলের গ্রমীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করেছে।

বর্ষা মৌসুমে চলনবিলে থই থই পানি চোখে পড়ে। আর শুষ্ক মৌসুমে সমগ্র বিলাঞ্চল থাকে শুষ্ক। খাল খনন করে পানি নিষ্কাশনের ফলে শুষ্ক মৌসুমে বিলে পানি চোখে পড়ে না। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মাছের পরিবর্তে বিলে এখন অসংখ্য পুকুর কেটে বিদেশী হাইব্রিড মাছের সাথে কুচিয়া মাছ চাষ করা হচ্ছে। নদী বিল শুকিয়ে যাওয়া দিগন্ত বিস্তৃত জমিতে ধান, পাট, সরিষা, রসুন, পেঁয়াজ, তরমুজ, বাঙ্গি, মরিচ, গাজর, সিম, কপি, আলু, পটল, লাউসহ নানা প্রকারের ফসল আবাদ হচ্ছে। সবজির ব্যাপারীরা প্রতিদিন এ অঞ্চলের অমৃতকুণ্ডা হাট, মির্জাপুর হাট, ছাইকোলা হাট, মহিশলুটি হাটসহ ১২টি হাটবাজার থেকে লাউ, আলু, সিম, বেগুন, গাজর, কপি, টমেটোসহ বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি কিনে ট্রাকে করে পাবনা, রাজশাহী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছেন।

রফতানিকারকরা ঢাকা থেকে বিমানে সবজি আমেরিকা, ইংল্যান্ড, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইরাকসহ অনেক দেশে রফতানি করছেন।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ৩৬৮ কিলোমিটার আয়তনের বিস্তীর্ণ চলনবিল অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে হয়ে উঠতে পারে বিপুল সম্ভাবনাময়। এ অঞ্চলের উৎপাদিত মাছ, মধু এবং সরিষা ভোজ্যতেলের ঘাটতি পূরণে অনেকাংশে সক্ষম হয়েছে।

পরিকল্পিত পদ্ধতিতে ইরি-বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করে দেশের খাদ্যঘাটতি নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। চলনবিলে এখন বাণিজ্যিকভাবে কুচিয়া মাছ চাষ করা হচ্ছে। এই কুচিয়া মাছ এবং কাঁকড়া চিনে রফতানি করা হচ্ছে। গবাদিপশু, হাঁস, মুরগি, মৌমাছি পালন, শামুক, কাঁকড়া, চিংড়ি চাষের মাধ্যমে এ অঞ্চলের চাষিরা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো চাঙ্গা করে তুলতে পারেন। এভাবেই চলনবিল খুলে দিতে পারে সমৃদ্ধির অপার সম্ভাবনার দ্বার।

জানা যায়, নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, সিংড়া, নওগাঁ জেলার রানীনগর, আত্রাই, সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, পাবনা জেলার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, বেড়া এবং বগুড়া জেলার দক্ষিণাঞ্চল মিলে চলনবিলের অবস্থান ছিল। কিন্তু ১৯১৪ সালে ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জ রেলপথ স্থাপনের পর থেকে রেলপথের উত্তর ও পশ্চিম অংশকেই চলনবিল বলা হয়। এম এ হামিদ টি কে ১৯৬৭ সালে ‘চলনবিলের ইতিকথা’ বইতে লিখেছেন, তখন থেকে প্রায় ১৪০ বছর আগে অর্থাৎ ১৮২৭ সালে জনবসতি এলাকা বাদ দিয়ে চলনবিলের জলময় অংশের আয়তন ছিল ৫০০ বর্গমাইলের ওপরে।

১৯০৯ সালে চলনবিল জরিপ কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, তৎকালে বিলের আয়তন ছিল ১৪২ বর্গমাইল। এর মধ্যে ৩৩ বর্গমাইল এলাকায় সারা বছর পানি জমে থাকত। ওই রিপোর্টে বলা হয়, চলনবিল তার পানির স্রোতধারা ও নাব্যতা হারিয়ে ক্রমে সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছে।

কার্তিক- অগ্রহায়ণ মাসে চলনবিল অঞ্চলের পানি নেমে গেলে সমতল ভূমি জেগে ওঠে। তখন ওই সমতল ভূমি বা জমিতে চাষ হয় সরিষা, রসুন, কালাই, ধান, লাউ, কপি, আনাজ, গাজর, বেগুন, শসা, ক্ষিরাসহ নানা প্রকার রবি ফসল। এরপর এলাকার কৃষকেরা প্রস্তুতি নেয় বোরো ধান চাষে। পৌষ-মাঘ মাসেই ধানের চারা লাগানোর কাজ শেষ হয়ে যায়। কৃষি উৎপাদনে সেচের জন্য কৃষকরা ব্যবহার করছেন ভূগর্ভের পানি। বৈশাখ মাসেই ধান কাটা শুরু হয়। শুধু ধানই নয়, অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে আবাদ হয় নানা প্রকার শাকসবজি। এ অঞ্চলের মাছ, সরিষা, মধু উৎপাদনসহ নানা প্রকার মৌসুমি ফসল ফলছে। তবে উৎপাদিত পণ্যের যথাযথ সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার অভাবে প্রতি বছর চাষিরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মৎস্য চাষিরা জানিয়েছেন, দেশের সর্ববৃহৎ জলাভূমি চলনবিল এলাকার প্রায় ২০ লাখ মানুষ বছরে প্রায় পাঁচ মাস বেকার জীবনযাপন করেন। বর্ষাকালে এই এলাকার কৃষি জমি পানিতে ডুবে যায়। তাদের হাতে কোনো কাজ থাকে না। এ সময় অনেকে মাছ ধরার পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। কিন্তু একসময়ের মৎস্যভাণ্ডর খ্যাত চলনবিলে এখন পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যায় না।

এ অঞ্চলে ক্ষুদ্র কুটির শিল্প স্থাপন করে বেকারদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা হলে গ্রামীণ অর্থনীতি নতুন জীবন পাবে। সেই সাথে উৎপাদিত কুঠির শিল্পজাত দ্রব্য জাতীয় অর্থনীতির বিকাশ সাধনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো