English|Bangla আজ ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার সকাল ১০:১৫
শিরোনাম
গংগাচড়ায় জেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদকের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণঅসহায় মানুষের পাশে শীতবস্ত্র নিয়ে রংপুরিয়ান-ওয়ার্ল্ড ওয়াইডছায়ানট সাংস্কৃতিক সংস্থা, ময়মনসিংহ এর ৩ যুগ পূর্তি উপলক্ষে গুণীজন সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণতরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা বাড়াতে হবে ; তানভিরনাগেশ্বরী পৌরসভা নির্বাচনে মোহাম্মদ হোসেন ফাকু বিজয়ীগাইবান্ধা ও সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনাগাজীপুরে যুবলীগের আয়োজনে মাইনুল হোসেন খান নিখিলের রোগমুক্তি কামনায়,দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।পলাশবাড়ীতে সন্ধি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মেয়র ও কাউন্সিলরদের সংবর্ধণা প্রদানফুলবাড়ীতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণশান্তিপুর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নাগেশ্বরী পৌরসভা নির্বাচন

চরফ্যাশন হাসপাতাল এখনও দালাল মুক্ত হয়নি

এম আবু সিদ্দিক,চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ

আগত রোগী ধরার ব্যস্ত দালালদের দৌরাত্ন এখনও দেখা যায় ভোলার চরফ্যাশন হাসপাতাল চত্বরে। ভবনের ভিতরে করিডোরে বাহিরে রোগী সেবা দেয়ার কথা বলে নিদিস্ট হাসপাতালে নেয়ার চিত্র দেখা যায়। সরকারি হাসপাতালে কর্মরত,ওয়ার্ড বয় ও জরুরি বিভাগের কয়েকজন কর্মচারী দালালদের নামে – বেনামে এম্ব্যুলেন্স,ডাক্তার দেখানো,ওয়ার্ড বরাদ্দ দেয়াসহ প্রত্যক্ষ সহযোগিতার ঘটনা এখন ওপেনসিক্রেট। চরফ্যাশন হাসপাতালের জরুরিবিভাগের ওয়ার্ড বয় মনির দুটি এম্ব্যুলেন্সের মালিকানার কথা স্বীকার করেছে। তবে সে একটির মালিকের কথা স্বীকার করেছেন। চরফ্যাশন হাসপাতালের অপর এক এম্ব্যুলেন্স চালক জসিম।

তিনি বর্তমানে তিনটি এম্ব্যুলেন্সের মালিক। তার কোন এম্ব্যুলেন্স নেই বলে তিনি দাবী করেছেন। তবে ভোলার একটির সাথে শেয়ারের কথা স্বীকার করেন তিনি। অনুসন্ধানে জানা গেছে এদেরমত আরও স্টাফ,যাদের নামে বেনামে অনেক সম্পত্তি রয়েছে।একজন ওয়ার্ড বয়, এন্বু্লেন্চ চালক জরুরি বিভাগের কর্মচারী এত সম্পদের মালিক হয়েছেন দালালী করে কমিশনের মাধ্যমে।

তাছাড়া হাসপাতাল সড়কে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগণস্টিকসহ অসংখ্য ওষুধের দোকানের কর্মচারীদের সক্রিয় সিন্ডিকেটে এদের পরোক্ষ সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। আগত রোগীদের কৌশলে নিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে কমমুল্যে চিকিৎসা দেয়ার আশ্বাসে ভর্তি করায়।এরপর ওষুধ ও সরঞ্জামসহ কেনা -কাটা এবং বেসরকারি ডায়গণস্টিকে পরিক্ষা নিরিক্ষার নামে মোটা অংকের কমিশন হাতিয়ে নেয় রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে। দালালদের পৃস্টপোষকতায় সরকারি ও প্রাইভেট হাসপাতালের কতিপয় কর্মচারীরা।
এমন অসংখ্য অভিযোগের তথ্য রয়েছে এসব দালালচক্রের বিরুদ্ধে।

সরকারি বিধি অনুযায়ী কোন সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২শ গজের অভ্যন্তরে কোনো বেসরকারী হাসপাতাল কিংবা ডায়াগণস্টিক থাকার নিয়ম নেই। অথচ চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশত বেসরকারী হাসপাতাল ও ডায়াগণস্টিক সেন্টার।
ড্রাগ লাইসেন্স ও অপ্রশিক্ষিত ড্রাগ ফার্মসিস্ট টেকনোলজিস্ট ছাড়াই রয়েছে অধিকাংশ হাসপাতাল।হাসপাতাল সড়কে শতাধিক ওষুধের দোকানও রয়েছে চরফ্যাশন সরকারী হাসপাতালের দেয়াল ঘিরে।যাদের নেই কোন বৈধ কাগজপত্র।এসব
ওষুধের দোকানের অতিরিক্ত কর্মচারিরা আগত রোগীদের কৌশলে ফুশলিয়ে নিয়ে যায় দোকান ও ডায়গণস্টিক সেন্টারে। ফলে সেখানে রোগীরা অতিরিক্ত চড়ামূল্যে ওষুধ ক্রয় করে পরে ভোগান্তিতে। চরফ্যাশন হাসপাতাল চত্বর এলাকায় নারী পুরুষ ও কিশোর যুবকসহ প্রায় শতাধিক দালাল সবসময় হাসপাতালের ভেতর বাহিরে রোগী ধৃত করার জন্য অবস্থান করছে। জরুরী বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে জরুরী বিভাগের কর্মচারীদের কাজে সহায়তা করতেও দেখা যায় এসব বহিরাগত দালালদের।

দালালরা মাঝেমধ্যে ওয়ার্ডে ঢুকে রোগীকে ইনজেকশন পুশ করতেও দেখা যায়।স্বচিত্র এমন একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।এক রোগী প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করে চিৎকার দিলে তার দালাল দোকান থেকে ব্যাথার ইনজেকশন এনে সরকারি হাসপাতালে ভর্তিরত রোগীকে পুশ করেছিল।প্রশ্ন উঠেছে রোগীর অবস্হা অবস্হা খারাপ হলে যার দায় কি নিতো!

স্বাস্থ্য সচেতনতা না মেনেই রোগীদের সেবা দিচ্ছে হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারসহ একাধিক বিভাগ।
এই বিষয় চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শোভন বসাক জানান, প্রশাসনের সহায়তার কয়েকবার দালালদের ধরার পরও তার বেপরোয়া।আইনের ফাকঁফোকরে এরা বের হয়ে আবারও সেই পেশায়।এদের বিরুদ্ধে আইন করে ব্যবস্হা নিতে হবে। তবেই দালাল মুক্ত হবে হাসপাতাল।

এরা এতোটা অপ্রতিরোধ্য যে তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তারা ক্ষমতার দাপট দেখায়।সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে দালাল মুক্ত করা হবে চরফ্যাশন হাসপাতাল।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো