English|Bangla আজ ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার সকাল ৬:০০
শিরোনাম
চরফ্যাশনে মেয়র- সাধারন কাউন্সিলদের ভোট বিন্যাসপ্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ জানিয়ে কাজীর সংবাদ সম্মেলনচরফ্যাশন পৌর সভায় আওয়ামীলীগের জয়বান্দরবানে অজ্ঞাত ব্যাক্তির লাশ উদ্ধারআবারও খানসামায় দ্রুতগামী মটরসাইকেল-নসিমন সংঘর্ষে যুবক নিহত।মোছাঃ মাহমুদা ইসলাম সেফালী প্রাইসমানি ফুটবল টুর্নামেন্টে ২০২১ শুভ উদ্বোধনচিলমারীতে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনশেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তরিত হয়েছে ….নওগাঁয় তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদবাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বাবু ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার সৌজন্যে প্রদত্ত শীতবস্ত্র বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্টিতঘাটাইলে সংবর্ধনা ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী

গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্যাপুর) আসনে জমে উঠেছে ৪ প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা

আল কাদরি কিবরিয়া সবুজ, স্টাফ রিপোর্টার:-

গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্যাপুর) আসনের উপ- নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা শুরু হতে না হতেই জমে উঠেছে। ১ মার্চ প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে এই প্রচারণা শুরু। এই আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জাসদসহ ৪ প্রার্থী এখন নির্বাচনী মাঠে।

প্রার্থীরা সকালে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে ফিরছেন গভীর রাতে। প্রার্থীদের গণসংযোগের পাশাপাশি দুপুর থেকে শুরু হচ্ছে মাইক দিয়ে প্রচার। দুই উপজেলার শহর ও হাট-বাজারে চলছে মাইকে প্রচার। প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। গত বুধবার আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি সাদুল্যাপুরে গণসংযোগ করেন।

তিনি সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট, ফরিদপুর ও জামালপুর ইউনিয়নের হাট-বাজারে কমপক্ষে ১১টি পথসভা করেন। এছাড়া তিনি ওইদিন বিকেলে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের তরফবাজিত মাদ্রাসা মাঠে এক বিশাল সভায় বক্তব্য দেন। এসব সভায় তিনি এ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলেন, আপনারা জানেন নৌকা উন্নয়নের প্রতীক।

নৌকায় ভোট দিলে দেশে উন্নয়ন হয়। তাই বার বার জাতীয় নির্বাচনে নৌকা বিজয়ী হয়। আপনারা আমার নৌকা প্রতীকে ভোট দেন। আমি এমপি নির্বাচিত হলে দুই উপজেলার উন্নয়নের পাশাপাশি বেকার সমস্যার সমাধান করবো। তিনি আরও বলেন, আমরা স্বস্থিতে কাজ করছি। উপ-নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। এনিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ- উদ্দীপনা দেখছি। গত কয়েকদিনে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তারা বলেছেন ভোট দিতে যাবেন। ভোট উৎসবমুখর হবে।

গত বুধবার বিএনপি দলীয় প্রার্থী ডাঃ মইনুল হাসান সাদিকও সাদুল্যাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ও খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন। তিনি দুই ইউনিয়নের হাট-বাজারে ৮টি পথসভা করেন। এসব সভায় ডাঃ মইনুল হাসান সাদিক বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে কোনো ভোটার ছিল না।
ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়েছে। আওয়ামী লীগ ভোটের আগের রাতে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে বাক্স ভড়িয়ে নির্বাচিত হয়েছে। তাই এই উপ-নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে আমাদের শঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, এই উপ- নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হবে। এজন্য প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আসনটি বিএনপিকে উপহার দিতে পারবো। আমি নির্বাচিত হলে দুই উপজেলায় অনেক উন্নয়ন হবে।

ওইদিন জাতীয় পার্টি (এরশাদ) সমর্থিত প্রার্থী মইনুল রাব্বী চৌধুরীও বুধবার সাদুল্যাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম, খোর্দ্দকোমরপুর, ফরিদপুর ও বনগ্রাম ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন। তিনি চারটি ইউনিয়নে ১৩টি পথসভা করেন। এসব পথসভায় মইনুল রাব্বী চৌধুরী বলেন, এই আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। আবার জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। এজন্য আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রমকে চাঙ্গা করতে হবে। লাঙ্গলের পক্ষে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, আবার বাবা প্রয়াত মন্ত্রী ড. টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী ছয়বার এমপি ছিলেন। আমার বাবা দুই উপজেলায় অনেক উন্নয়ন করেছেন। তাই আবার জাতীয় পার্টিকে পূণরায় ক্ষমতায় আনতে হবে। আপনারা লাঙ্গলে ভোট দিবেন। আমি নির্বাচিত হলে বাবার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবো। উপ- নির্বাচন নিয়ে মইনুল রাব্বী চৌধুরী বলেন, ভোটেরদিন কি হবে জানি না। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা দেখছি না।

জাসদ প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম খুদি সাদুল্যাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ও ধাপেরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ৯টি পথসভা করেন। এসব পথসভায় খাদেমুল ইসলাম খুদি বলেন, উপ-নির্বাচন কিভাবে সুষ্ঠু হবে। এই নির্বাচন নিয়ে আমাদের শঙ্খা রয়েছে। তার আলামত এখনি বুঝতে পারছি। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার সাদুল্যাপুরের ফরিদপুর ইউনিয়নের মোলংবাজার এলাকায় আমার প্রচার মাইক ভাংচুর করে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা।

বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমি একাদশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। কিন্তু ভোট কারচুপি ও ভোট মেরে নেওয়ার কারণে দুপুরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই। তিনি বলেন, উপ-নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয়, সেজন্য প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

মাইক ভাংচুর প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলেন, আমার কোনো কর্মী-সমর্থক জাসদের মাইক ভাংচুর করেনি। কে বা কারা করেছে তা আমরা জানি না।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকার মারা যাওয়ায় নির্বাচন কমিশন এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি এ আসনের উপ-নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হয়। তফশিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ মার্চ শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। পলাশবাড়ী পৌরসভা ও পলাশবাড়ী উপজেলার ৮টি ও সাদুল্যাপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে ৪ লাখ ১১ হাজার ৮৫৪ জন ভোটার রয়েছে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো