English|Bangla আজ ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩:২৮
শিরোনাম
কোভিড-১৯ মোকাবেলার লক্ষ্যে পাথরঘাটায় সিসিডিবি’র খাদ্য সামগ্রী, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কৃষি উপকরন বিতরণ।বাংলাদেশের কনিষ্ঠ মেয়র মনির , বয়স ৩৬গাজীপুরে দুই ছিনতাইকারী গ্রেফতার মোটরসাইকেল জব্দ।ভূঞাপুরে পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিতকালীগঞ্জে ভিক্ষুক পূর্ণবাসন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এস.এম. তরিকুল ইসলাম।সচেতনতা বার্তা নিয়ে পায়ে হেঁটে ৭০ কিঃমিঃ পথ পাড়ি দিল নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী রিয়াদ!ফরদাবাদ ইউপি নির্বাচন: আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইয়াকুব মাস্টারকুড়িগ্রামে কেমিস্টস্ সমাবেশ ও পরিচিতি সভাআত্রাইয়ে ফসলি জমিতে পুকুর খনন, খনন বন্ধে অভিযোগ: প্রশাসন নিরবগোবিন্দগঞ্জে অটোভ্যান চালক হামিদুল হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফতার-৩

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ

আল কাদরি কিবরিয়া সবুজ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বড় দাউদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম (৪৮)। বসতভিটাসহ তিন বিঘা জমি ছাড়া আর কোন সম্পদ নেই। জমির আযই একমাত্র ভরসা। বছরে যে ধান উত্পাদন করেন তা দিয়ে কোনমতে চার সদস্যের সংসার চলে।

ধান চাল বিক্রি করেই দুই ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়। এবার কৃষি বিভাগের পরামর্শে বাড়ির উঠান সংলগ্ন পতিত তিন শতক জমিতে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করেন। প্রথমবার ফুল চাষ করেই তিনি বাজিমাত করেছেন। মাত্র ৭০০ টাকা খরচে উত্পাদিত হয়েছে নয় হাজার টাকার ফুল। আব্দুল হালিম বললেন, অধিক দামে সার, তেল কিনে ধান চাষ করে উত্পাদন খরচই ওঠে না। তারপরও পৈত্রিক পেশা ধরে আছি। বাড়তি আয়ের জন্য গত বছরের অক্টোবর মাসে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করি। এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেছি।

আরো চার হাজার টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবো। এবার ১৫ শতক জমিতে ফুল চাষ করবো। কৃষক হালিমের মত তিন শতক করে জমিতে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করে প্রথমবারেই লাভবান হয়েছেন একই গ্রামের কৃষক বাদল সরকার ও গীতা রানীসহ উপজেলার দশজন কৃষক।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, গাইবান্ধার সাতটি উপজেলার মধ্যে এই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ও বনগ্রাম ইউনিয়নে দশজন কৃষককে উদ্বুদ্ধ করে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করা হয়। প্রতিজন কৃষক তিন শতক হিসেবে মোট ৩০ শতক জমিতে সাদা, হলুদ ও গোলাপি রঙ্গের ফুলের চাষ করেন। সূত্রটি জানায়, দ্বিতীয় শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্পের আওতায় যশোর থেকে গ্লাডিউলাস ফুলের বীজ (আদা বা হলুদের মত মূল) সংগ্রহ করে এনে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

একই সঙ্গে চাষ পদ্ধতিও শিখিয়ে দেয়া হয়। বেশি পরিমাণে গোবর সার, পটাশ ও টিএসপি সার দিয়ে জমি তৈরি করতে হয়। গ্লাডিউলাস ফুলের বীজ কোল্ড স্টোর থেকে বের করার দশ দিনের চার গজায়। সেই চারা গত বছরের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে তারা (কৃষকরা) রোপণ করেন। গাছ বড় হবার পর সামান্য ইউরিয়া সার ছিটিয়ে দিতে হয়। এরপর ৭০ দিনের মাথায় ওই ক্ষেতের ফুল বাজারজাত করা যায়। সূত্রটি আরো জানান, সাদুল্লাপুরের চাষিরা জানুয়ারি মাস থেকে তাদের ক্ষেতের ফুল প্রতিটি স্টিক বাজারে আট থেকে দশ টাকা দরে বিক্রি করতে শুরু করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান জানিয়েছেন, ফুল বিক্রির পরও কৃষকরা গাছের বীজ বিক্রি করতে পারবেন। তিন শতক জমি থেকে অন্তত দশ হাজার টাকার চারা বীজ উৎপন্ন হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক ইত্তেফাককে বলেন, পরীক্ষামূলক গ্লাডিওলাস চাষে বাম্পার ফলন পাওয়া গেছে।

এবার এক একর জমিতে ফুল চাষের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয়া হয়েছে। এদিকে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ হওয়ায় গাইবান্ধার ফুল ব্যবসায়িরাও খুশি। গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডের মণীষা ফুল ঘরের স্বত্বাধিকারি শ্যামল চন্দ্র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যশোর থেকে গ্লাডিওলাসসহ বিভিন্ন জাতের ফুল আনা হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ বেশি পড়ে। এখন ক্রেতারা তাজা ফুল কম দামে পাচ্ছেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো